বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যা, পুলিশ কাস্টডিতে মৃত্যু এবং গুমের ঘটনায় আমরা প্রতিনিয়ত উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে নিয়োগ পাওয়ার পর গত চারমাসের অভিজ্ঞতা এবং তার সাম্প্রতিক চট্টগ্রাম সফর নিয়ে প্রথমবারের মতো ফেসবুকে চ্যাটিংয়ের সময় বার্নিকাট এমন মন্তব্য করেন।

ঢাকায় কর্মরত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট আরও বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি যাতে মানবাধিকার খর্বকারী এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হয় এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়।

ডেভিড বার্গম্যান তার প্রশ্নে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থা খাতে ইউএসএইডের (USAID) মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে, তখনই গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে।  অথচ এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাসের পক্ষ থেকে সরাসরি চাপ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা কেন অনুভব হচ্ছে না? বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করবেন কী?

বার্নিকাট তার অনলাইন জবাবে বলেন, আমাদের সব সহযোগিতার লক্ষ্যই হলো বাংলাদেশের জনগণকে সাহায্য করা। আইনশৃঙ্গলা খাতে সহযোগিতার উদ্দেশ্য হলো মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা এবং পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করা।  

তবে, ২০১৪-এর মার্চে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বার্নিকাটের ঢাকায় অবস্থানের মধ্যেই অতিসম্প্রতি অনুষ্ঠিত তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পটভূমিতে ২০১৯ সালে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা যায় কীনা-বার্গম্যানের এ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাব সময়ের অভাবে দিতে পারেননি মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমেরিকান সরকারের বর্তমান নীতি কী-নাসরিন আখতার নামের এক সাংবাদিকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগরে ভেসে থাকা মানবেতর জীবনযাপনকারী ৭ হাজার অভিবাসীদের মানবিক সহায়তা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এই সংকটের সমাধানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডের একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অপরাপর দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভেসে থাকা অসহায় অভিবাসীদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকে ইতিবাচক কোন ফল আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বার্নিকাট।

ওই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, এ অঞ্চলের সব রাষ্ট্রই এই সম্মেলনে যোগ দেবে বলে তিনি আশাবাদী।   

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আমেরিকায় পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাসহ দুর্দশাগ্রস্ত বর্মীদের সহায়তায় ২০১৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আমেরিকা ১০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।

বার্নিকাট বলেন, সবাইকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গাসহ বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের পুনর্বাসনে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে অঙ্গিকারাবদ্ধ এবং এক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দেশ।

দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে একটি সুষ্ঠু, গ্রহনযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের দাবি দেশের সিংহভাগ মানুষের। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার নিশ্চুপ। অপরদিকে, প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কি শুধু মন্তব্যের মধ্যেই নিজের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখবে-এফএমএম হোসাইন নামের একজনের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব সমস্যার মোকাবেলায় বাংলাদেশের মানুষকেই শেষ পর্যন্ত একযোগে কাজ করতে হবে ।

তিনি বলেন, একজন বন্ধু হিসেবে ঢাকাকে, বাংলাদেশকে ও এর মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্নভাবেই সহযোগিতা করছে, বিশেষ করে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে। আমাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের অপরাপর বন্ধুরাও তাই করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের জিএসপি সুবিধা আবারও ফিরে পেতে বার্নিকাটের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে-মজুমদার মুন্না নুসানের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আবারও আন্তর্জাতিক ফোরামের দাবি অনুযায়ী পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য অধিকার সংরক্ষণ ও কারখানায় নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

কেবি