নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর প্রায় তিন দিন পরও মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স-এর বোয়িং ৭৭৭ বিমানটির কোন সন্ধান এখনো মেলেনি, তবে চুরি যাওয়া পাসপোর্টধারী যে দুই ব্যক্তি ওই বিমানে ভ্রমণ করছিলেন, তাদের পরিচয় সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তাদের চেহারা 'এশিয়ানদের মতো নয়'।
এদের একজনকে সনাক্ত করা হয়েছে বলে মালয়েশিয়ার পুলিশ বলছে। তার পরিচংয় সম্পর্কে এতটুকুই বলা হয়েছে যে ‘সে মালয়েশিয়ান নয়‘।
কিন্তু বিমানটির ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। নিখোঁজ হবার কিছু আগে বিমানটি হয়তো গতিপথ পরিবর্তন করেচিল, এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে দক্ষিণ চীন সাগরের যে জায়গাটিতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছিল - তার আওতা বাড়িয়ে মালাক্কা প্রণালী পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
কিন্তু বিমানটি কি ধ্বংস হয়েছে – না ছিনতাই বা অন্য কিছু হয়েছে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানা যায় নি।
বিমানটির কোন ধ্বংসাবশেষ এখনো পাওয়া যায়নি, ফ্লাইট রেকর্ডারেরও কোন খোঁজ মেলে নি। যদিও ভিয়েতনামের উপকূলে সাগরে কিছু বস্তু ভাসতে দেখা গেছে, কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো নিখোঁজ বিমানটিরই টুকরো কিনা তা নিশ্চিত করা যায় নি।
সাগরে দুটি জায়গায় যে তেল ভাসতে দেখা গিয়েছিল সেটাও – রাসায়নিক পরীক্ষার পর জানা গেছে যে তা কোন বিমান থেকে ছড়ায় নি। ফলে আসলে কি হয়েছে তা এখনো অজানা।
মালয়েশিয়ার বিমানচলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আজহারুদ্দিন আবদুল রহমান বলেছেন, হাইজ্যাকিংএর শিকার হওয়া সহ সব রকম সম্ভাবনাই তারা বিবেচনা করে দেখছেন।
অন্যদিকে যাত্রীদের স্বজনদের চরম দুঃসংবাদের জন্য প্রস্তুত হতেও বলা হচ্ছে।
বিমানটির বেশির ভাগ যাত্রীই ছিল চীনা নাগরিক। তাই তিন দিন পরও বিমানটি উদ্ধার না হওয়া চীন উদা্ধার কাজ জোরদার করার জন্য মালয়েশিয়াকে তাগিদ দিয়েছে ।
বিমানটির খোঁজে মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যেকার দক্ষিণ চীন সাগরে অনুসন্ধান চলছে, এবং তা এখন রীতিমত আন্তর্জাতিক চেহারা নিয়েছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর সহ মাট ৯টি দেশ এতে ভুমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরও এই কার্যক্রমে যোগ অংশ নিচ্ছে।
বিমানটির ব্ল্যাক বক্স থেকেও কোনরকম সংকেত পাওয়া যায় নি। মার্কিন সপ্তম নৌবহরের একজন কর্মকর্তা বলছেন, বিমানটি সাগরে ভেঙে পড়ে গিয়ে থাকলে ফ্লাইট রেকর্ডারটি পানিতে ভাসতে থাকার কথা এবং এ থেকে নির্গত সিগন্যাল রাডারে ধরা পড়ার কথা।
তিনি বলেন, একটি ফুটবলের মতো বড় কিছু সাগরে ভাসতে থাকলেই তা রাডারে ধরা পড়বে।
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার সাথে সন্ত্রাসী কোন কর্মকাণ্ডের যোগাযোগ আছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। কারণ বিমানটিতে এমন দু’জন যাত্রী ছিলেন যারা চুরি যাওয়া ইউরোপীয় পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন।
এরা দু’জনই একই সময় টিকিট কিনেছিল এবং বেইজিং থেকে অন্য একটি বিমানে করে তাদের আমস্টার্ডম এবং ইউরোপের অন্য কোন গন্তব্যে যাবার কথা ছিল।
মালয়েশিয়ার বিমান চলাচল কর্মকর্তা আজহারুদ্দিন আবদুল রহমান বলেছেন, তারা এখন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছেন।
তিনি বলেছেন, ‘জাল পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করছে - এমন দু’জন যাত্রী ওই বিমানে ছিল। আমরা তাদের সব সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছি - তাদের চেক-ইন করা থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত।’
যদিও এখন পর্যন্ত এ ঘটনাটি সন্ত্রাসীদের কাজ হতে পারে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি - কিন্তু মালয়েশিয়ার গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এবং সন্ত্রাস-দমন কর্মকর্তারা বিমানটির যাত্রীদের পুরো তালিকাটি পরীক্ষা করে দেখছেন।
অন্যদিকে, বিমানটি খুঁজে বের করতে মোট ৯টি দেশের ৪০টি জাহাজ এবং ৩৪টি বিমান কাজ করছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
[b]ঢাকা, ১০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // টিআই
[/b]