যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন বা সরকারের অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফের জানিয়ে দিয়েছেন, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ না পেলে সরকারের অচলাবস্থা সহসাই কাটবে না।

বরাদ্দ না পেলে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধেরও হুমকি দিয়েছেন তিনি। বুধবার কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও কোনো সমাধানে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প ও প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেট নেতা চাক শুমার।

ফলে দ্বিতীয় সপ্তাহের গড়াল সরকার অচলাবস্থা। খবর সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ানের।

২২ ডিসেম্বর থেকে ১৩ দিন ধরে অচল মার্কিন প্রশাসনের একাংশ। অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত না হওয়ায় বাধ্যতামূলক ছুটি বা বেতন ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন লাখ লাখ সরকারি কর্মী। সরকারি অর্থ বরাদ্দের কোনো প্রস্তাব কার্যকর করাতে সংশ্লিষ্ট বিলকে দুই কক্ষের অনুমোদন ছাড়াও পেতে হয় প্রেসিডেন্টের সম্মতি।

সর্বশেষ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবে দেয়াল নির্মাণে ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা একমত না হওয়ায় তাতে সম্মতি দিতে অস্বীকার করেন ট্রাম্প। হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিল পাস করাতে ডেমোক্র্যাটদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।

সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ ছাড়া সরকারের অচলাবস্থা কাটাতে ট্রাম্প উদ্যোগী না হওয়ায় বুধবার বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন কংগ্রেসের নেতারা।

শাটডাউনের ইতি টানার লক্ষ্যে আলোচনা করতে শুক্রবার আবারও হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আশা করছেন তারা। বুধবারের বৈঠকে অংশ নেয়া শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্পের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন যে, কেন তিনি সরকারের বিদ্যমান অচলাবস্থার অবসান ঘটাচ্ছেন না?

সিনেটর চাক শুমার বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে বলেছি, কেন সরকারের অচলাবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে? আমাকে এর একটি সন্তোষজনক কারণ দেখান। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো সন্তোষজনক কারণ দেখাতে পারেননি।’

সিনেটরদের সঙ্গে এই বৈঠকের পর টুইটারে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এর আগে শুক্রবার একাধিক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনার বিকল্প হবে মেক্সিকো থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।

এর ফলে মার্কিন গাড়ি কোম্পানিগুলো মেক্সিকোতে থাকা তাদের কারখানা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। গত অক্টোবরেও ওই সীমান্ত বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন সীমান্তে আসা অবৈধ অভিবাসীদের ঢল থামাতে লাতিন আমেরিকার সরকারগুলোর ওপর চাপ তৈরিতেই ওই হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘যদি প্রগতিবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা দেয়াল নির্মাণ শেষ করার অর্থ না দেয় তাহলে আমরা দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।’