ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ যদি আগামী বছর পর্যন্ত চলে, তাহলে দেশটির প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৯ জনই দারিদ্র্যের কবলে পড়বে।
বুধবার (১৬ মার্চ) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। খবর রয়টার্সের।
ইউএনডিপির প্রশাসক আসি স্তাইনের জানান, ভেঙে পড়া অর্থনীতির সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি এড়াতে তার সংস্থা ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। স্পষ্টতই এই দৃশ্যকল্পের চরম সমাপ্তি হলো সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির বড় পতন। এটি শেষ পর্যন্ত ৯০ শতাংশ লোককে দারিদ্র্যসীমার নিচে বা সেখানে যাওয়ার উচ্চঝুঁকিতে ফেলতে পারে, জানান তিনি।
এদিকে সোমবার পর্যন্ত ২৮ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। তাদের মধ্যে এক লাখ ২৭ হাজার অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের যুদ্ধ ৭৫ লাখের অধিক শিশুর ওপর ‘বিধ্বংসী প্রভাব’ ফেলেছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৪ লাখই শিশু। এদের মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার শিশু তৃতীয় দেশের নাগরিক।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন ৩০ লাখের বেশি মানুষ। এ ছাড়া যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা নিহত এবং রাশিয়ার ১২ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের প্রায় ৫০০ সৈন্য নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ৬৩৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৬ শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইউক্রেনে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
এমআর





