পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, সম্প্রতি দুই বিদেশী নাগরিককে হত্যাসহ এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যারা জড়িত তারা সচরাচর যা বলেন তার উল্টোটা করে থাকেন।

আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সরকারের পক্ষ থেকে কুটনীতিকদের দেয়া এক ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সম্প্রতি এক সপ্তাহের মধ্যে জাপানের নাগরিক হোসি কোনিও এবং ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার নিহতের ঘটনায় দেশের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও কুটনৈতিক মিশনের প্রধানদের অবহিত করতে আয়োজন করা হয় এই ব্রিফিংয়ের।

দুই বিদেশী নিহত হওয়ার আগেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে-এই মর্মে সরকারকে সতর্ক বার্তা দিয়েছিল আমেরিকান দূতাবাস। কিন্তু তার পরও এই হত্যাকান্ড ঠেকাতে সরকার কেন ব্যর্থ হলো-সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে এমন প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, যারা এ ধরনের নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঘটায় তারা যা বলেন করেন ঠিক তার বিপরীত।

বিষয়টি খোলাসা করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসীরা যেসব জায়গায় নাশকতা করতে পারে বলে খবর পাওয়া যায় তারা সেখানে ঘটনা না ঘটিয়ে অন্যত্র ঘটায়। আর সেই কারণেই প্রায়ই তাদের দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে, দুই বিদেশী হত্যার ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশী কুটনীতিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ব্রিফিংয়ে কুটনীতিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর (২০১৫) ঢাকার কুটনীতিক পাড়া হিসেবে খ্যাত গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজারকে তিন মোটরসাইকেল আরোহী গুলি করে হত্যা করে। এর পাঁচ দিন পরে গত ৩ অক্টোবর (২০১৫) রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারি এলাকায় জাপানি নাগরিক কুনিও হোসিকে তিন মুখোশধারী গুলি করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

কেবি