ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেয়ার আগ পর্যন্ত ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হবে না বলে ঘোষণা করেছে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, আগের বারের বন্দি বিনিময়ের চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া যে ৫৪ ফিলিস্তিনিকে ইসরাইল আবার আটক করেছে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হলেই কেবল বন্দি বিনিময় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের খোতবায় হানিয়া এ শর্ত আরোপ করেন। ২০১১ সালে ইসরাইলের সঙ্গে এক চুক্তি অনুযায়ী হামাস তাদের হাতে আটক ইহুদিবাদী সেনা গিলাত শালিতকে মুক্তি দেয়। এর বিনিময়ে ১,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয় তেল আবিব। ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে প্রায় পাঁচ বছর আটক থাকার পর মুক্তি পায় ইসরাইলি সেনা শালিত।

ঈদের নামাজের খোতবায় ইসমাইল হানিয়া বলেন, শালিতের মুক্তির বিনিময়ে যেসব ফিলিস্তিনি মুক্ত হয়েছিলেন তাদের অনেককে আবার আটক করেছে তেলআবিব। এসব ফিলিস্তিনিকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত নতুন করে বন্দি বিনিময়ের আলোচনা হবে না বলে মধ্যস্থতাকারীদের সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে ইসরাইল দাবি করে, গাজা উপত্যকায় তাদের দুই নাগরিক আটক রয়েছে। কিন্তু গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস তেল আবিবের এ দাবির ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

ইহুদিবাদী কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০১৪ সালের গ্রীষ্মে গাজা যুদ্ধ শেষ হওয়ার দু’সপ্তাহ পর ইথিওপিও বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিক আব্রাহাম মেঙ্গিসতু একা একা গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করার পর হারিয়ে যায়। অপর ইসরাইলি নাগরিক একজন আরব বেদুইন। সে কবে কীভাবে গাজায় আটক হয়েছে তা জানাতে পারেনি তেল আবিব।

এই দুই ইসরাইলি নাগরিকের ব্যাপারে হামাস কোনো মন্তব্য না করলেও এর আগে জানিয়েছে, ২০১৪ সালের যুদ্ধের সময় নিহত একাধিক ইহুদিবাদী সৈন্যর দেহাবশেষ তাদের হাতে রয়েছে। সূত্র: রেডিও তেহরান

এসএইচ