সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ব্যয় কাতারকে বহন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জুবেইর। যদি কাতার তা না করে তাহলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা হারাবে এবং ক্ষমতাসীনদের পতন হবে হবে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা ছাড়া এক সপ্তাহ টিকতে পারবে না কাতারের ক্ষমতাসীনরা। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ’র বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর।

এক প্রতিবেদনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির ব্যয় কাতারকে বহন এবং সেখানে সেনা পাঠাতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারকে দেওয়া সুরক্ষা প্রত্যাহারের আগেই এটা করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার ব্যয় বহন ও আইএসবিরোধী লড়াইয়ে সেনা মোতায়েনের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পরই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিবৃতি দিলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা ছাড়া কাতারের ক্ষমতাসীনরা এক সপ্তাহও টিকতে পারবে না।


গত বছর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভাড়াটে সেনাদের দ্বারা কাতার দখলের ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপর থেকেই কাতার নিজেদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যয় বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাইবার সুরক্ষা সফটওয়্যার খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করে দেশটি।
কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। সেখানে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা ও ১০০টি বিমান মোতায়েন রয়েছে। রাজধানী দোহা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে এই ঘাঁটির অবস্থান। সিরিয়া ও ইরাকে লড়াইয়ে ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে।


গত বছর জুনে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার আসছে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এমনটা হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের মিডল ইস্ট সেন্টার-এর আমন্ত্রিত অধ্যাপক মাদাউই আল-রশিদ বলেন, অবরোধে থাকা দেশ কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ দেবে? কেনই বা কাতার? সৌদি আরবই তো সিরিয়ার বিরোধী দলগুলোকে একই ছাতার নিচে আনতে চাইছে আসাদের বিরুদ্ধে। এটা ব্যর্থতার স্বীকৃতি।

ডারহাম ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপনায় নিযুক্ত ক্রিস্টোফার ডেভিডসন মনে করেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেষ্টা করছেন দোহার ঘাড়ে দায়িত্ব দিতে। তিনি বলেন, সৌদি আরব ও কাতার উভয় দেশই নতুন মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছে।

শাহরিয়ার আলম