মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী যে সহিংসতা চালাচ্ছে তা গণহত্যা বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির টিএমসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে তার দেশ চলমান গণহত্যা ও জাতিগোষ্ঠী নিশ্চিহ্নকরণের নিন্দা জানাতে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর এই প্রথম বিষয়টিকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করলেন ম্যাখোঁ। তবে এর আগেও বিষয়টির সমালোচনা করেছেন তিনি।

নিউ ইয়র্কে ফরাসী টেলিভিশন চ্যানেল টিএমসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ জানান, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চলছে।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সহযোগীদের নিয়ে ফ্রান্স উদ্যোগ নেবে যেন চলমান এই গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের বিষয়ে জাতিসংঘ নিন্দা করে এবং আমরা যেন এই গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি।

ম্যাক্রোঁ বলেন, জাতিগত নিধনের যেকোনও প্রচেষ্টাকে আমাদের নিন্দা জানাতে হবে। জাতিসংঘকেই এই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানাতে হবে, মানবিক ত্রাণ সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানাতে হবে।

জাতিসংঘ যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানাবে, তখন এই বৈশ্বিক সংস্থাটির অধীনেই মিয়ানমারে হস্তক্ষেপ করার মতো কার্যক্রমে নেওয়া সম্ভব।

দ্য ডেইলি সান পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বার্মিজ আর্মি ও দেশটির মগ সন্ত্রাসীদের নৃশংসতার শিকার হয়ে ইতোমধ্যে ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর তথাকথিত কিয়ারেন্স অপারেশন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসঙ্ঘ সামরিক বাহিনীর এই অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এমবি