ভবিষ্যতে আর কোন যুদ্ধে তেলআবিব বিজয় অর্জন করতে পারবেনা বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুসেইন দেহকান। সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের বিজয়কে স্বাগত জানাতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, দখলদার যায়নিস্টরা ভবিষ্যতে আর কোন যুদ্ধেই বিজয়ের গৌরব অর্জন করতে পারবে না। এমনকী আর কোন নতুন যুদ্ধে জড়ানোর মতো সামর্থও দেশটির থাকবে না। ইসরাইলের হুমকী ধামকি এখন নিছক ফাঁকা বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সামর্থের প্রশংসা করে বলেন, তাদের হস্ত এখন অনেক উপরে এবং ইসরাইলের শত হুমকী সত্ত্বেও তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনের সামর্থ রাখেন।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেহকান বলেন, অবরুদ্ধ গাজায় ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে ইসরাইলের অপমানজনক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির পতন ঘটেছে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার প্রতি এমন বার্তাই পৌছেছে যে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে এবং তেলআবিবের প্রতি পক্ষপাতমূলক সমর্থন বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, ইসরাইল নতুনভাবে কোন দু:সাহস দেখানোর চেষ্টা করলে তাতে শেষ পর্যন্ত দেশটির জালিয়াতি শাসনেরই পুরোপুরি মূলোৎপাটন ঘটবে। অপরদিকে, এরফলে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে এবং ইসরাইলের মাস্তানির জবাব দেয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই (২০১৪) থেকে গাজায় ইসরাইল ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে। পরবর্তীতে ফিলিস্তিনের এই অঞ্চলটিতে স্থল অভিযানও শুরু করে দখলদার ইসরাইলি সেনারা।

মানবতাবিবর্জিত ওই ইসরাইলি আগ্রাসনে ২১৩০জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। এদের মধ্যে ৫৭০ জন শিশুসহ রয়েছেন বিপুল সংখ্যক নারী ও বৃদ্ধ। এছাড়া দখলদার ইহুদীদের আগ্রাসনে আরও অন্তত ১১ হাজার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

তবে, অমানবিক আগ্রাসন সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের অকুতোভয় প্রতিরোধের মুখে গত ২৬শে আগস্ট যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলের বহু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। এমনকী নেতানিয়াহু সরকারের কোয়ালিশন সদস্যদেরও তীব্র নিন্দার মুখে পড়েন যুদ্ধবাজ এই ইহুদী প্রধানমন্ত্রী।

ইসরাইলের বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইল চরমভাবে পরাজিত হয়েছে। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তেলআবিব চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে। পাশাপাশি ৭০ জন ইসরাইলি সেনার মৃত্যুকেও কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ইসরাইলের অধিবাসীরা।

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি