দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংঘাত বাধলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শনিবার যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তার একদিন আগেই ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত প্রতিবেশী পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘সীমান্তে শান্তি ও নিরুপদ্রব অবস্থা’ ব্যাহত হলে আরো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হবে।

ভারতের বহুল সমালোচিত ‘কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিন’ বহাল আছে বলেও উল্লেখ করেন রাওয়াত। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনী এই ডকট্রিন তৈরি করে।

তাই, এই বাগাড়ম্বরপূর্ণ ভাষা দুই দক্ষিণ এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে আরেকটি যুদ্ধের পথে নিয়ে যাবে কি-না, তা নিয়ে নতুন বছরের শুরু থেকে দুই দেশের মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এ দেয়া বক্তব্যে বাইডেন বলেন, অনেক দেশ এমন অপ্রত্যাশিত কার্যক্রম চালাচ্ছে যা আঞ্চলিক সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাইডেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের প্রতি দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে যথেষ্ঠ গুরুত্বের সঙ্গে ‘পারমাণবিক ইস্যু’ মোকাবেলার আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্ব অনেক বড় বিপদের মুখে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ সদস্য বুঝতে পারলেও এমন অনেক দেশ আছে যারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বাড়িয়ে চলেছে এবং নতুন নতুন পারমাণবিক অস্ত্রের উদ্ভাবন ঘটাচ্ছে।” এমন দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

তবে, সংঘাত উষ্কে দেয়ার জন্য প্রতিবেশি দেশটিকে দায়ি করে পাকিস্তান। ভারতীয় সেনাপ্রধানের বিবৃতি উল্লেখ করে পাকিস্তানের ইংরেজি পত্রিকা দি ডন লিখে, ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায়।

ভারতের উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে জেনারেল রাওয়াতই প্রথম তার দেশের ‘কোল্ড স্ট্রার্ট ডকট্রিন’র কথা পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দেন। পূর্ববর্তী সেনাপ্রধানরা এই পরিভাষা ব্যবহার করতেন না। তারা একে একটি ’প্রো-এ্যকটিভ স্ট্রাটেজি’ হিসেবে উল্লেখ করতেন।

প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণ চালানোর আগেই দেশটির অভ্যন্তরে পদাতিক ও বিমানবাহিনীর যৌথ আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে ভারত এই ‘কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিন’ প্রণয়ন করে।

ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাতকারে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই ‘কোল্ড স্টার্ট’ পরিভাষা ব্যবহারকে ভারতের পত্রপত্রিকা নয়াদিল্লি’র আগের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে আসা এবং পাকিস্তানের প্রতি একটি বার্তা বলে উল্লেখ করে।

জবাবে পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা ফরমেশন ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে। সীমান্তের ওপারে ভারত হামলা চালালে পাকিস্তান “কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র” ব্যবহার করতে বাধ্য হবে বলেও দেশটি সতর্ক করে দেয়। সাধারণত স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কৌশলগত অস্ত্র ছোড়া যায় এবং তা কার্যকরভাবে কোল্ড স্টার্ট হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম।

ভারতের সঙ্গে বিরোধ, বিশেষ করে কাশ্মির বিরোধ নিস্পত্তিতে মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায়। এসব বিরোধ নিস্পত্তি না হলে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ লেগে যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দেয়।

তবে পাকিস্তানের সঙ্গে বেশিরভাগ বিরোধ নিস্পত্তিতে ভারত বাইরের মধ্যস্থতার বিপক্ষে। এসব বিরোধ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে নিস্পত্তি করতে চায় দেশটি। তবে, এ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনাগুলো খুব কমই ফলপ্রসূ হয়েছে।

তবে সন্ত্রাসবাদের মতো ইস্যুতে ভারত বাইরের মধ্যস্থতা গ্রহণের পক্ষে। দেশটি চায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন আন্ত:সীমান্ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধের ব্যাপারে তাদের প্রভাবকে কাজে লাগায়।

তারা আন্ত:সীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় উৎসাহ যোগানোর জন্য পাকিস্তানকে দায়ি করে। তবে পাকিস্তান সব সময়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির মতে এটা ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ভারতের একটি অপপ্রচার।(source-southasianmonitor.com)

এমবি