বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অনশন ধর্মঘটকারী ইরোম শর্মিলা মঙ্গলবার মধু চুষে স্বাভাবিক জীবনের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৬ বছর ধরে তাকে নাক দিয়ে তরল খাবার দেয়া হয়েছে।

তিনি এই তরল খাবার খেয়ে কিভাবে বেঁচে ছিলেন? কী ছিল এই তরল খাবারে?

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার ইরোমকে দিতে মাসে মনিপুর সরকারের খরচ হতো অন্তত ১০ হাজার রুপি।

এক চিকিৎসক জানান, তিনি সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত এবং সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেতেন। এই খবার এমনকি ভারতের সবচেয়ে ধনী লোকটিও খেতে পারে না।

তবে তিনি যে সংগ্রাম করেছেন, তার নজির বিশ্ব ইতিহাসে নেই। কেবল ইচ্ছা শক্তিই এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে মনিপুরের ‌‘লৌহমানবী’ ইরম চানু শর্মিলাকে।

ভারতের মনিপুর রাজ্যে সেনাবাহিনীর বর্বরতার প্রতিবাদে টানা ১৬ বছর অনশনের পর মঙ্গলবার সেই কর্মসূচির অবসান ঘটান ৪৪ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে শর্মিলার ভাই ইরম সিংহজিৎ বলেন, “প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি আর প্রতিদিন যোগ ব্যায়াম করে সে তার শরীরকে সুস্থ রেখেছে।”

২০০০ সালে আসাম রাইফেলসের সদস্যদের গুলিতে মনিপুরে এক বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুসহ দশজন নিহত হলে শর্মিলার প্রতিবাদের সূচনা হয়। মনিপুর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ১ নভেম্বর অনশন শুরু করেন শর্মিলা।

অনশন শুরুর দু’দিনের মাথায় গ্রেপ্তার করা হয় শর্মিলাকে। অনশন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, এই ছিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ।

কিছুদিন পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সরকারের নির্দেশে নাকে নল ঢুকিয়ে শর্মিলাকে তরল খাবার দেয়া শুরু হয়। ১৪ বছর জওহরলাল নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স হাসপাতালে আটকে রেখে ওইভাবে তাকে খাবার নিতে বাধ্য করা হয়। ২০১৪ সালে আদালত তার নাকের নল খুলে ফেলার নির্দেশ দেয়।

অনশনরত অবস্থায় ১৫ দিন পর পর আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে শর্মিলাকে। গত মাসের শেষ দিকে আদালতে হাজির হয়ে ৯ অগাস্ট অনশন ভাঙার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। সেইসঙ্গে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে বিয়ে করার এবং রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথা বলেন।

মঙ্গলবার জামিন নিয়ে আদালত থেকে বেরিয়ে আসার পর সমর্থকদের মাঝে মধু ও গরম পানি দিয়ে পৃথিবীর দীর্ঘতম অনশন ভাঙেন তিনি।

এফএফ