মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সত্যিই সত্যিই ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ও উত্তেজনা নিরসনে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এই ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বয়ং জাতিসংঘে নিযুক্ত মন্ত্রী পদমর্যাদার মার্কিন প্রতিনিধি নিক্কি হ্যালি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এ ব্যাপারে যুক্ত হতে পারেন। দু’দেশের উত্তেজনা নিরসনে ভুমিকা পালন করবে মার্কিন প্রশাসন। এমনকি এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্পৃক্ত হবারও আভাস দিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় বংশদ্ভুত ট্রাম্প প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিক্কি হ্যালির এ বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে ডোনাল্ট ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিরোধে মধ্যস্ততা করতে প্রস্তুত বলে যে কথা বলেছিলেন তা কথার কথা ছিল না।
তিনি বুঝে শুনেই এ ব্যাপারে ওবামা প্রশাসনের নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বলেছিলেন কাশ্মীর ইস্যুটি ভারত ও পাকিস্তানের নিজেদের বিষয়। এটি তাদেরকেই সমাধান করতে হবে । এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অথবা জাতি সংঘের কিছু করার নেই।
ওবামা প্রশাসনের এই অবস্থানের সাথে এই ইস্যু নিয়ে ভারতের যে অবস্থান তার মিল রয়েছে। নয়াদিল্লি বলে আসছে সিমলা চুক্তির সময় দুই দেশ কাশ্মীর ইস্যুটিকে উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং দু’দেশ আলোচনা করে এর সমাধান করবে বলে সম্মত হয়েছিল।
পাকিস্তান বলে আসছে কাশ্মীর ইস্যুটি সৃষ্টির সুচনাকাল থেকে এর সাথে জাতিসংঘ সম্পৃক্ত ছিল। এই নিয়ে দুই দেশ আলোচনা করার অর্থ এই নয় যে এটি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করা যাবে না। পাকিস্তান সব সময় এই ইস্যুটিকেজাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপনের চেষ্টা করে আসছে।
জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ভারত-পাকিস্তান বিরোধে হস্তক্ষেপ না করার নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়ে মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সাংবাদিকদের বলেছেন,”এটা একেবারে সঠিক যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে খুব চিন্তিত। কীভাবে আমরা এই উত্তেজনাকে প্রশমন করার ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারবো সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখছি।”
আগামী এপ্রিলে নিরাপত্তা পরিষদে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা কেমন হবে এই মর্মে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে হ্যালি বলেন, “আমরা মনে করি না যে, কোন কিছু ঘটা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত হবে”।
কাশ্মীর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে ভারত ও পাকিস্তানকে শান্তি আলোচনায় এক সাথে বসানো হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হ্যালি বলেন, “আমরা মনে করি যে, যে ভাবে উত্তেজনা বিষ্ফোরণোন্মুখ হচ্ছে আমাদের অবশ্যই সক্রিয় ভুমিকা রাখতে হবে। এই অবস্থার প্রশমনে আমাদেরও এর অংশ হওয়া উচিৎ। ”
তিনি উল্লেখ করেন,” আমি মনে করি যে এমন কিছু বিষয় আপনারা দেখবেন হয়তো নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা তাতে অংশ নিচ্ছে কিন্তু বিস্মিত হবেন না যদি প্রেসিডেন্ট এতে অংশগ্রহণ করেন।”
ট্রাম্প মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে হ্যালি এই প্রথমবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসন নিয়ে কথা বললেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় কাশ্মীরকে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমস্যা হিসাবে দেখা হতো। সে সময়ের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কারবি বলেছিলেন, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দুই দেশের বাইরে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। তখন তিনি বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের উচিত কাশ্মীর ইস্যুতে কিভাবে তারা বিরোধ মীমাংসা করবে তা নির্ধারণ করা।(southasianmonitor)
এমবি





