থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে চালের ভর্তুকি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। স্থানীয় সময় বুধবার ইংলাকের অনুপস্থিতিতে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে এই মামলার শুনানিতে অংশ নিতে ২৫ আগস্ট আদালতে হাজিরার দিন নির্ধারিত ছিল ইংলাকের। সেদিন আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিল তার শত শত সমর্থক। কিন্তু সেদিন তিনি শেষ পর্যন্ত আদালতে হাজির হননি।
পরে জানা যায়, তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে ইংলাকের ভাই ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার একটি বাড়ি আছে। থাইল্যান্ড থেকে পালিয়ে সেখানে গেছেন ইংলাক।
২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। তিনি চালে ভর্তুকির যে প্রকল্পটি নিয়েছিলেন, তাতে সমর্থন ছিল বিপুলসংখ্যক কৃষকের। তবে সেনাশাসিত সরকারের দাবি, এই প্রকল্পে অন্তত ৮ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতি হয়েছে।
২০১৪ সালে থাইল্যান্ডে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন ইংলাক ।আদালতে দাঁড়িয়ে কাঁদলেন ইংলাক সিনাওয়াত্রাথাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা বলেছেন, তিনি কখনোই অসৎ ছিলেন না।
ধানচাষিদের ভর্তুকি প্রদান সংক্রান্ত একটি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ইংলাক ১ আগস্ট ব্যাংককের একটি আদালতে দাঁড়িয়ে বলেন, তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই মামলাগুলো করা হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক হয়রানির শিকার।
আদালতে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল ইংলাক বলেন, ভর্তুকি প্রদান সংক্রান্ত নীতি তৃণমূল ও জাতীয় পর্যায়ের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই নীতির কারণে দেশের কোনো ক্ষতি হয়নি।তিনি বলেন, ধান প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা অসততা হয়নি। তার ওই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।
এ সময় আদালতের বাইরে ইংলাকের শত শত সমর্থক তার পক্ষে ‘লড়াই চাই!’ ‘লড়তে হবে!’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।ইংলাক সিনাওয়াত্রা ২০১১ সালের ৫ আগস্ট থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল নয়জন মন্ত্রীসহ ইংলাককে বরখাস্ত করেন।২০১৫ সালে তাকে রাজনীতিতে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
ইংলাক আদালতে আরো বলেন, ‘আমি কখনো আমার দায়িত্ব পালনে পিছপা হইনি। আমি নিষ্ঠার সাথে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি কখনই অসততার আশ্রয় নেইনি। আমি জানি, আমি এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।’
ইংলাক আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান।এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে তার সমর্থকরা জমায়েত হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
এমএ





