ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক জমানায় জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের হোতা ছিলেন কর্নেল রেজিনাল্ড এডওয়ার্ড হ্যারি ডায়ার।
ওয়েব ডিসকাশন ফোরাম ‘কোরা’র আলোচনা অনুযায়ী ডায়ারই ঔপনিবেশিক প্রশাসকদের মধ্যে সবচেয়ে নিষ্ঠুর ছিলেন।
১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল তার নেতৃত্বে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড হয়।
ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান সেনাদলের এ অফিসারের নির্দেশেই সেদিন বৈশাখী উপলক্ষে সমাগত নিরস্ত্র মানুষের ওপরে গুলি চলেছিল, মারা গিয়েছিলেন আনুমানিক ১০০০ জন। আহতের সংখ্যা প্রায় ১১০০।
জালিয়ানওয়ালাবাগ ঘটনা ছাড়াও কর্নেল ডায়ারের নৃশংসতার পরিচয় পাওয়া যায় সমকালীন পাঞ্জাবের আরও কিছু তথ্য থেকে।
জানা যায়, এ ঘটনার পর ডায়ার দম্ভের সঙ্গে নিজের অপকর্মকে সমর্থন করেন। তার পাশে এসে দাঁড়ান সেই সময়ের পাঞ্জাবের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মাইকেল ও’ডয়ের। এ দুজন মিলে চালাতে থাকেন এক সন্ত্রাসের রাজত্ব।
ডায়ারের কুকর্মের মধ্যে ছিল- গ্রামাঞ্চলে হানা দিয়ে বিনা কারণেই মানুষের ওপরে হামলা। যে কোনো অজুহাতে মানুকে বেঁধে চাবকানো।
চেহারা বড়—এ অভিযোগে ৬ স্কুলছাত্রকে অমানুষিক প্রহারের নির্দেশ দেন তিনি।
বেশ কিছু মানুষকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তার ওপরে দড়ি দিয়ে বেঁধে একটি ট্রাকের ওপরে ১৫ ঘণ্টা টানা দাঁড় করিয়ে রাখেন তিনি।
বেশ কিছু গ্রামকে তিনি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন করেন, সেখানে জল সরবরাহও বন্ধ রাখেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গ্রেফতার করে প্রকাশ্য খাঁচায় আটকে রাখার ব্যবস্থা করেন ডায়ার।
মানুষকে পশুর মতো চার হাত-পায়ে হাঁটতে বাধ্য করতে ভালোবাসতেন ডায়ার।
হিন্দু-মুসলমান সংহতিকে ব্যঙ্গ করার জন্য মুসলমানদের হিন্দুদের সঙ্গে জোড়ায় জোড়ায় বেঁধে রাখার খেলা খেলতেন তিনি।
তবে এমন নৃশংসতা সত্ত্বেও কর্নেল ডায়ারকে ব্রিটিশ সরকার কোনো শাস্তি দেয়নি। বরং দেশে ফিরে তিনি বীরের সম্মান পান। সাধারণ ব্রিটিশরা তার জন্য ২৬০০ পাউন্ড চাঁদা তোলে।
অন্যদিকে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাযজ্ঞকে হান্টার কমিশন শুধু ‘একটা বড় ভুল’বলে এড়িয়ে যায়।
এসএম





