মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আকস্মিক  ও সংক্ষিপ্ত আফগানিস্তান সফরের বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তার এ সফর থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে আফগানিস্তানের বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ গত রবিবার মধ্যরাতে আফগানিস্তানের বাগরামে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনে যান। এ সফর থেকে বোঝা যায়, পাশ্চাত্যের অন্যান্য নেতার মত প্রেসিডেন্ট ওবামাও আফগানিস্তানের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে আগ্রহী নয় এবং তিনি আফগানিস্তানকে নিজের অঙ্গরাজ্যের মতই মনে করেন। এ ছাড়া, আমেরিকা আফগানদের টেলিফোনে আড়িপাতে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আফগান সরকার আমেরিকার এ ধরণের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে একে আফগানদের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাগরাম ঘাঁটিতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে আহবান জানালেও কারজাই তার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগান সরকার ও জনগণের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামার আচরণ খুবই অসম্মানজনক ও অবমাননাকর হওয়ায় এর প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট কারজাই ওবামার সঙ্গে দেখা করেননি। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ পাশ্চাত্যের কর্মকর্তারা কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে এবং আফগানিস্তানের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে সেদেশ সফরে আসবেন বলে আফগান সরকার ও জনগণ আশা করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক বাগরাম সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে শুধু যে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করেছেন তাই নয় একই সঙ্গে তিনি এও প্রমাণ করেছেন, আফগানিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব কারণে প্রেসিডেন্ট ওবামার এ সফরের ফলে ওয়াশিংটন ও কাবুলের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা ও মতবিরোধ নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখেনি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বাগরাম সফরে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা নিরাপত্তা চুক্তি সইয়ের জন্য আফগানিস্তানের নতুন সরকারের প্রতি আহবান জানানো থেকে বোঝা যায় চুক্তি সই করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তিনি আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের প্রতি খুবই ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। চুক্তি সইয়ের জন্য নতুন সরকারের প্রতি ওবামার এ আহবানকে অনেকটা নির্দেশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন খুব শিগগিরি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এরপরই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসবে। আফগানিস্তানের জনগণ সবসময়ই প্রমাণ করেছে তারা কখনোই কারো দখলদারিত্ব মেনে নেয় না এবং সরকারের ওপর বিদেশিদের কোনো নীতি চাপিয়ে দেয়ারও সুযোগ দেবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন স্বেচ্ছাচারী নীতির কারণে ওয়াশিংটন ও কাবুলের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় আফগানিস্তানে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখা হবে সে বিষয়ে খুব শিগগিরি জানানো হবে বলে প্রেসিডেন্ট ওবামা ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আফগানিস্তানের জনগণ চায় যত দ্রুত সম্ভব সেদেশে বিদেশি সেনাদের দখলদারিত্বের অবসান ঘটুক। সূত্র: আইআরআইবি [b]ঢাকা, ২৭ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ[/b]