দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী নেতা, বিশ্ব মেহনতি মানুষের জন্য উৎসর্গীকৃত মহাপ্রাণ আফ্রিকার প্রিয় নেতা মাদিবা, নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মশত বার্ষিকী আজ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ম্যান্ডেলাকে স্মরণ করা হবে।
এদিনে স্বেচ্ছাসেবীরা নেলসন ম্যান্ডেলার কর্মময় প্রত্যেক বছরের জন্য এক মিনিট করে শত শত কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বেচ্ছাশ্রম দেবেন। সারা বিশ্বের মানুষকে এক ঘণ্টার বেশি সময় ভালো কাজে ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করতে জাতিসংঘ ২০১০ সালে নোবেল বিজয়ী নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিনকে ‘ম্যান্ডেলা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে ১৯৬২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তাকে রোবেন দীপে কারাবন্দি থাকতে হয়। ১৯৯০ এর ১১ ফেব্রুয়ারিতে তিনি কারামুক্ত হন। পরে শ্বেতাঙ্গ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বর্ণবাদ দূর করেন আফিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস- এএনসি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে এ কিংবদন্তি নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে বাংলাদেশে এসেছিলেন এ মহানায়ক।
ম্যান্ডেলার রাজনৈতিক জীবনের প্রথমভাগে তিনি মহাত্মা গান্ধির দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী কর্মীরা আন্দোলনের প্রথম দিকে গান্ধির অহিংস আন্দোলনের নীতিকে গ্রহণ করে বর্ণবাদের বিরোধিতা করেছিল।
ম্যান্ডেলাও প্রথম থেকেই অহিংস আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকার ১৯৫৬ খ্রস্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর তারিখে ম্যান্ডেলাসহ ১৫০ জন বর্ণবাদবিরোধী কর্মীকে দেশদ্রোহিতার অপরাধে গ্রেপ্তার করে। এই মামলাটি সুদীর্ঘ ৫ বছর ধরে (১৯৫৬-১৯৬১) চলে, কিন্তু মামলার শেষে সব আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হন।
২০১৩ সালে ৫ ডিসেম্বর বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়ে বিদায় নেন মানুষের সমতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবনজুড়ে ত্যাগ স্বীকার করে যাওয়া এই নেতা।
এএস





