“এই সরকারকে যত দেবেন, সরকারও আপনাদের তত ঢেলে দেবে” বলেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বেতনবৃদ্ধির ঘোষণার পরে এই আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
লোকসভা ভোটের আগে সরকারি কর্মীদের তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটাই তিনি রাখছেন বলেও এদিন দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর কথায়, “ভোটের আগে ভাঁওতা দিলাম আর ভোটের পরে পগার পার হয়ে গেলাম, সেই রাজনীতি আমি করি না। যতটা পেরেছি, সবটাই করেছি।”
তবে এ দিন ষষ্ঠ পে-কমিশনের প্রথমাংশের সুপারিশ মেনে বেতন-বৃদ্ধির যে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তাতে কর্মীদের সুরাহা কতটা হবে তাতে ‘ধোঁয়াশা’ দেখছেন বিরোধীরা।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন, “মুখ্যমন্ত্রী যে ঘোষণা করেছেন, তার মধ্যে মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। বিষয়টি ঝুলে রইল। তাই কর্মীরা আজ পকেটে হাত দিয়ে দেখছেন, কী পেলাম!”
বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানেরও প্রতিক্রিয়া, “মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তাতে যথেষ্ট ধোঁয়াশা আছে। তিনি আগে যত ঘোষণা করেছেন, তারই বা কতটা রূপায়িত হয়েছে?”
তাঁর বক্তব্য, “প্রথা অনুযায়ী বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে আলাদা করে আর মহার্ঘ ভাতা থাকে না। নতুন মহার্ঘ ভাতা তিনি ঘোষণা করেননি। তাই এর মধ্যে আলাদা কৃতিত্ব দাবি করার কিছু নেই।”
একই ভাবে সিপিএমের পলিটবুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিমের প্রশ্ন, “সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী কত রকম ঘোষণা করেছেন? বেতন কমিশন কার্যকর করার বিষয়টিও বারবার ঝুলে থাকে কেন? এখন তিনি বলছেন, রিপোর্টের প্রথম অংশ পেয়েছেন। বাকিটুকু কবে হবে? আর সরকারি সিদ্ধান্ত নবান্নেই বা ঘোষণা হবে না কেন?”
যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে, তাদের কর্মীদের পাশেও দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা। ২৩ সেপ্টেম্বর নেতাজি ইন্ডোরেই ওই কর্মীদের সংগঠনগুলি নিয়ে সমাবেশ করবেন বলে তিনি জানান। তথ্য সূত্র-আনন্দবাজার।
এমবি





