গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সিনিয়র নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরাইলিদের জন্য আর কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট রাখেনি।

তিনি বলেন, "গোটা দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরাইল) আমাদের হামলার আওতায় চলে এসেছে। তেল আবিব ও সুদূরে হাইফা বন্দরসহ ইসরাইলের প্রতিটি শহরের যে স্থানকে আমরা টার্গেট করেছি ঠিক সেখানেই আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।"

৫০ দিনের গাজা যুদ্ধে বিজয় উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় গাজা শহরে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে একথা বলেন ফিলিস্তিনের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হানিয়া। ২০০৬ সালের নির্বাচনে হামাসের বিজয়ের পর ইসমাইল হানিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও পরে স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রধান মাহমুদ আব্বাস তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। কিন্তু গাজা উপত্যকায় হামাসের শাসন অব্যাহত থাকে এবং সেখানে তিনি এখনো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ৫০ দিন ধরে ইসরাইলি আগ্রাসনের শিকার গাজাবাসীর পক্ষে আত্মগোপনে থেকে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ইসমাইল হানিয়া। মঙ্গলবার কায়রোয় ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার পর বুধবার তিনি প্রথম জনসম্মুখে হাজির হান।

হানিয়া বলেন, এ যুদ্ধে প্রতিরোধ যোদ্ধারা বিজয়ী হয়েছে এজন্য যে, তারা ইসরাইলের হৃৎপিণ্ডে আঘাত হানতে পেরেছে। আমরা শত্রুকে এ বার্তা দিয়েছি যে, তোমরা আমাদের ভূখণ্ডের আর কোনো জায়গায়ই নিরাপদ নও। ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড দখল করে যে অবৈধ রাষ্ট্র তোমরা গঠন করেছ তা তোমাদেরকে ত্যাগ করতেই হবে।

ফিলিস্তিনের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মুখ যুদ্ধের সাহস নেই বলে ইহুদিবাদীরা দূর থেকে বিমান হামলা চালিয়ে গাজার নিরপরাধ নারী ও শিশুদের হত্যা করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সাহস থাকলে সম্মুখযুদ্ধে আসুন। এ সময় সমবেত হাজার হাজার জনতা আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে তাদের নেতার প্রতি সমর্থন জানান।

গত ৫০ দিনের যুদ্ধের আসল বিজয়ী হিসেবে তিনি গাজার ১৮ লাখ জনগণের কথা উল্লেখ করেন। হানিয়া বলেন, প্রতিরোধ যোদ্ধারা নন, বরং এ যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন গাজার সাধারণ মানুষ যারা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা বর্বরতম বোমাবর্ষণ সহ্য করেছেন।

গাজার ওপর আরোপিত সাত বছরের অবরোধ তুলে নেয়ার পাশাপাশি হামাসের প্রায় সবগুলো দাবি ইসরাইল মেনে নেয়ার পর মঙ্গলবার তেল আবিব ও গাজার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি সই হয়। এরইমধ্যে গাজায় মানবিক সাহায্য ও নির্মাণসামগ্রী আসতে দেয়ার জন্য দু'টি ক্রসিং পয়েন্ট খুলে দিয়েছে ইসরাইল।

গাজায় ৫০ দিনের ইসরাইলি আগ্রাসনে শহীদ হয়েছেন ২,১৪০ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরো ১১,০০০ মানুষ। অন্যদিকে তেল আবিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলায় নিহত হয়েছে ৬৯ জন ইসরাইলি যাদের বেশিরভাগই সেনা। তবে হামাস বলছে, তারা আরো অনেক বেশি ইহুদিবাদীকে খতম করেছে। সূত্র: আইআরআইবি

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ