শনিবার (১ এপ্রিল) থেকে বাংলাদেশে শুরু হওয়া ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না পাকিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে চলমান অস্বস্তিকর ও উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ডন পত্রিকার এক খবরে বলা হয়, ৩০ মার্চ ইসলামাদ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পাকিস্তান ইসলামী গণপ্রজাতন্ত্র (বাংলাদেশের) ঢাকায় ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১৩৬তম আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের এই সম্মেলনে যোগদানের কথা ছিলো।
রিপোর্টে বলা হয়, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে স্পিকার এই সিদ্ধান্ত নেন। এ সময়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পাকিস্তানী পার্লামেন্ট সদস্যদের সফরের অনুকূল নয় বলে পরামর্শে উল্লেখ করা হয়।
এবছর বাংলাদেশ ২৫ মার্চ দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করেছে। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানের অংশ থাকাকালে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সেনাবাহিনী যে দমন অভিযান চালায় তা স্মরণীয় করে রাখতে এই দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশ সরকার এখন ২৫ মার্চকে ‘বিশ্বগণহত্যা দিবস’ ঘোষণার জন্য জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাকিস্তান রাষ্ট্র ও এর জনগণের প্রতি ঢাকার অবন্ধুসুলভ মনোভাবের জন্য ইসলামাবাদ ওই সিদ্ধান্ত নেই বলে ডন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পাক স্পিকার তার বিবৃতিতে বলেন, ‘পাকিস্তান ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত বিদ্বেষপরায়ণ ও অনাহূত প্রপাগাণ্ডা এবং অবন্ধুসুলভ আচরণের কারণে ওই অপ্রীতিকর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”
সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে দেশটির পার্লামেন্ট এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বাংলাদেশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বারা গণহত্যা বিষয়টি জাতিসংঘের অনুমোদন পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা শুরু করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম শফিউল আলমকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার জানায়, “দিনটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রচেষ্টা শুরু করেছে।”
ডেইলি স্টারের মন্তব্যে বলা হয় ‘২৫ মার্চ’কে গণহত্যা দিবস হিসেবে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিলে তার দুটি প্রভাব পড়বে।
প্রথমত, এই দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর যুদ্ধকালীন নৃশংসতা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে। মানবতার এগিয়ে পাওয়ার পথে এর গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। এটা হলো কোন অপরাধ সংগঠিত হলে তাকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দান। তা না হলে মানবতা গণহত্যার পুনরাবৃত্তি প্রত্যক্ষ করবে। এটা অপরাধীদের ধিক্কার জানানোর একটি প্রক্রিয়া।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানী নেতা ও দেশটির সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেয় তাহলে এই স্বীকৃতি তাতে সহায়ক হবে।(southasianmonitor)
এমবি





