আইএসের (ইসলামিক স্টেট) সঙ্গে তেল বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতেই রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তুর্কিরা— এমন মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে সোমবার এ কথা বলেন তিনি। খবর বিবিসির।

জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে পুতিন অভিযোগ করেন, আইএসের দখলকৃত তেলক্ষেত্রগুলো থেকে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই তুরস্ক এ বিমান ভূপাতিতের ঘটনা ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের এই কার্যক্রমকে ‘বড় ভুল’ বলেও উল্লেখ করেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, তুরস্কের ভূখণ্ডে তেল সরবরাহের সুরক্ষায় আমাদের বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আরও তথ্য পেয়েছি যে, আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর দখল করা অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ তেল তুরস্কে সরবরাহ করা হয়।’

সিরীয় সীমান্তে গত মঙ্গলবার রাশিয়ার সু-২৪ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে তুরস্ক। তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের দায়ে এফ-১৬ বিমান থেকে রুশ বিমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় রাশিয়ার এক পাইলট ও উদ্ধার অভিযানে এক মেরিন সেনা নিহত হয়।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য তুরস্ককে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও দেশটি ক্ষমা চায়নি।

সম্প্রতি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাশিয়া। এ ছাড়া পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও ভিসাহীন ভ্রমণ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও বন্ধ রয়েছে।

তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বিমানটি ভূপাতিতের আগে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছে। এমনকি ‘তুর্কি বাহিনী জানত না যে এটা রুশ বিমান’ এ ধরনের মন্তব্যও করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান।

তবে তুরস্কের এ সকল দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। তারা ওই কর্মকাণ্ডকে ‘ইচ্ছাকৃত’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। রুশ বিমান তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি বলেও দাবি করেছে রাশিয়া।

এদিকে গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া তথ্য থেকে এটা প্রমাণিত যে, রাশিয়ার বিমান তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল।

বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরুর আহ্বানও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে প্যারিস সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এরদোয়ান। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

এমএইচ