জাভা সাগরের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে নিরাপদে অবতরণ করেছিল এয়ারএশিয়ার বিমানটি। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এমন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে।
ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুরগামী মালয়েশিয়ার মালিকানাধীন এয়ারএশিয়ার কিউজেড-৮৫০১ ফ্লাইটটি ১৬২ জন আরোহী নিয়ে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়।
এর দুদিন পর জাভা সাগরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। সাগর থেকে বিমানটির যাত্রীদের বেশকিছু মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এয়ারএশিয়ার বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ এগোয়নি। তবে উদ্ধারকারীরা এক সপ্তাহের মধ্যে বিমানটি ব্ল্যাক বক্স পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
কয়েকজন ফ্লাইট বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, অভিজ্ঞ প্রাক্তন বিমানবাহিনীর পাইলট ক্যাপ্টেন ইরিয়ান্ত বিমানটিকে অক্ষত অবস্থায়ই সাগরে অবতরণ করাতে পেরেছিলেন। পরে এটি উচ্চ স্রোতের কবলে পড়ে ও পানিতে তলিয়ে যায়।
ব্রিটেনের ট্যাবলয়েড মিরর জানায়, ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয় বিমানটি। কিন্তু জরুরি ট্রান্সমিশন বলছে, যখন এটি বিধ্বস্ত বা পানিতে তলিয়ে যায়, তখন এটি থেকে কোনো ধরনের ধোয়া নির্গত হতে দেখা যায়নি।
মালয়েশিয়ার এভিয়েশন ম্যাগাজিন অ্যানকাসার জ্যেষ্ঠ সম্পাদক দুদি সুদিবো বলেন, ‘বিমানটি ভূমি, সমুদ্র বা পর্বতমালার পাশে বিপজ্জনক অবস্থায় অবতরণ করলে জরুরি অবস্থান নির্ণয় ট্রান্সমিটার (ইএলটি) সেভাবে সংকেত পাঠাতো। কিন্তু আমার বিশ্লেষণে দেখা দেখে, অবতরণকালে ক্ষতিকর তেমন কোনো প্রভাব না পড়ায় এটি কোনো কাজই করেনি। সংকেতও পাঠায়নি। এ থেকে মনে হচ্ছে, সমুুদ্রে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছিলেন পাইলট।’
৩২ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে বিমানটি ওড়ানোর সময় ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে আরো উপর দিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন ক্যাপ্টেন ইরিয়ান্ত। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সেই অনুমতি তাকে দেয়নি।
তদন্তকারীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, খারাপ আবহাওয়া এড়াতে বিমানটি সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ওপরে উঠে যায়। এ কারণেই তা নিচে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে।
ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সিয়াহালা আলমশিয়াহ বলেন, খারাপ আবহাওয়ার জন্য গত বুধবার রাতে ৫০ জনের একটি ডুবুরি দল কাজ করতে পারেনি। গতকাল সকালে সাগর শান্ত এবং আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে আশা জাগে। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই আবহাওয়া আবারও খারাপ হয়ে যায়।
এয়ারবাস এ ৩২০-২১৬ বিমানটি ওড়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর ঝড়ের মধ্যে জাভা সাগরের আকাশে রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিধ্বস্ত বিমানটিতে দুজন চালক, পাঁচজন ক্রু সদস্য এবং শিশুসহ ১৫৫ জন যাত্রী ছিল। এ পর্যন্ত মাত্র সাতটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
বিমানের মূল অংশটি খুঁজতে ডুবুরি দল সম্ভাব্য দুর্ঘটনার স্থানে সাগরতলে নামার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। গত মঙ্গলবার একটি উড়োজাহাজ সেখানে সাগরতলে একটি ‘ছায়া’ দেখতে পায়। ওই ছায়া বিমানটির ধ্বংসাবশেষের বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিমান চলাচল নিরাপত্তাবিষয়ক এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানটি ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করতে এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, মিরর।
ইআর





