কারাগার ২১ দিন থাকার পর অবশেষে ছাড়া পেলেন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতা। তিনি এতদিন বেঙ্গালুরু রাজ্যের পারাপান্না সেন্ট্রাল জেলে বন্দি ছিলেন।

শনিবার বিকেলে ছাড়া পাওয়ার পরই তিনি বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরে পৌঁছেন। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে এ দিন বিকেলে চেন্নাই পৌঁছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টে শুক্রবারই শর্তসাপেক্ষে জামিন হয় জয়ললিতার। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালত থেকে তার জেলমুক্তির নির্দেশ হাতে পেতে সকাল গড়িয়ে যায়। এ দিন বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালতে দু’কোটি টাকার বন্ডসহ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ জমা দেন জয়ললিতার আইনজীবী। তার পরই বিচারপতি জন মাইকেল ডিকুনা জেল থেকে জয়ললিতার ছাড়া পাওয়ার নির্দেশ দেন। ততক্ষণে বেঙ্গালুরুর পারাপান্না সেন্ট্রাল জেলের সামনে পৌঁছে গিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও পনিরসেলভম, রাজ্যের কয়েক জন মন্ত্রীসহ এআইএডিএমকে-র বেশ কয়েক জন সাংসদ ও বিধায়ক।

সুপ্রিম কোর্টে জয়ার জামিন মেলার খবর আসতেই তামিলনাড়ু জুড়ে আনন্দের ঢল নামে। কিন্তু নেত্রীর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সেই আনন্দে যেন জোয়ার লাগে। উত্তেজনার বশে শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে আগেই জেল থেকে বিবৃতি দিয়ে সমর্থকদের সাবধান করে দিয়েছিলেন তাদের নেত্রী। তা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখতে চায়নি রাজ্য প্রশাসন। এ দিন সকাল থেকেই জেলের এক কিলোমিটারের মধ্যে কাউকে ঘেঁষতে দেয়া হয়নি। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার এম এন রেড্ডি বলেন, ‘এমন একটা স্পর্শকাতর বিষয়ে আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি।’

আয়বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর জয়ললিতাকে দোষী সাব্যস্ত করে বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালত। নেত্রীর সঙ্গেই অভিযুক্ত হন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক অভিনেত্রী শশীকলা, তার পালিত পুত্র এন সুধাকরণ এবং ইলাভারসিও নামে এক আত্মীয়। সুধাকরণের সঙ্গে যদিও পরের দিকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন জয়ললিতা।

ওই নির্দেশে দোষীদের প্রত্যেকের চার বছরের কারাদণ্ড এবং একশ’ কোটি টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দেয় আদালত। এর পরই জয়ললিতাকে জেলে নেয়া হয়।

ওই দিন সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি শর্তের প্রেক্ষিতে জয়ার জামিন মঞ্জুর করে। এক, দু’মাসের মধ্যে কর্নাটক হাইকোর্টে আপিলের সব নথি জমা দিতে হবে জয়ললিতাকে। দুই, শুনানি স্থগিত রাখার কোনও রকম চেষ্টা করা যাবে না। এ ছাড়াও সমর্থকেরা যাতে কোনও রকম গোলমাল না পাকায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে নেত্রীকে। এই মামলায় অন্য তিন অভিযুক্তেরও ওই দিন জামিন মেলে শীর্ষ আদালতে। এ দিন জয়াসহ অন্যরাও জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এসএমএ