তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন জার্মান ভাইস চ্যান্সেলর এবং অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেক।
ডিডাব্লিউ-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েই দিল্লিতে এসেছেন তিনি। এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক আছে তার। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থানে যে জার্মানি খুশি নয়, তা আরো একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
ডিডাব্লিউ-কে তিনি জানিয়েছেন, ‘অনৈতিক ঘটনা যখন ঘটে তখন নিরপেক্ষ থাকা যায় না। পক্ষ নিতেই হয়।’ ইউক্রেন যুদ্ধে একপক্ষ আক্রমণকারী অন্যপক্ষ আক্রান্ত। নিরপেক্ষ ‘সাজতে’ গিয়ে কেউ যদি বলে বসে তারা আক্রমণকারী এবং আক্রান্তের মধ্যে তফাত করে না। তাহলে বুঝতে হবে আসল ঘটনা থেকে চোখ সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
জার্মানমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাশিয়ার সাথে ভারতের ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে তিনি শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ভারতের পক্ষ নেয়া উচিত। আক্রান্তের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত।
হাবেকের বক্তব্য, ‘অত্যন্ত খুশি হবো যদি ভারত এবার একটি স্পষ্ট অবস্থান নেয়। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুখ খোলে। পুটিনের বিরুদ্ধে সরব হয়।’ ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ভারত এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ভোটে তারা অংশ নেয়নি। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, ভারত তা-ও সমর্থন করেনি। বরং রাশিয়ার সাথে সমান্তরাল বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।
চীনের বিকল্প
রাশিয়া নিয়ে ভারতের অবস্থানে খুশি না হলেও জার্মানি এবং সার্বিকভাবে ইউরোপ ভারতের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরো বাড়াতে চায়। একথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন জার্মান ভাইস চ্যান্সেলর। পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি নিয়ে ভারতের সাথে বেশ কয়েকটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মূলত, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়িয়ে চীনকে কড়া বার্তা দিতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ভারতের বাজার বড়। ফলে এশিয়ায় ভারতের সাথে সমান্তরাল বাণিজ্যের রাস্তা খুলে চীনের বিকল্প তৈরি করতে চাইছে ইউরোপ। সে কারণেই ভারতের সাথে বাণিজ্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে জার্মানি।
হাবেকের কথায়, ‘চীনের সাথে আমাদের বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে। কিন্তু রাশিয়ার যুদ্ধ বুঝিয়ে দিয়েছে। একটি দেশের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। চীনের উপরেও আমরা নির্ভরশীল হতে চাই না।’ ভারতকে যে চীনের বিকল্প বাজার হিসেবে দেখছে জার্মানি, ভাইস চ্যান্সেলরের কথায় তা অনেকটাই স্পষ্ট। তথ্যসূত্র : ডয়চে ভেলে।
এবিএস





