ভারতের আসাম রাজ্যে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ বাহিনী সিআরপিএফের এক সদস্যের গুলিতে ওই বাহিনীর এক সদস্য এবং এক বেসামরিক শিশু নিহত হয়েছে। একেবারে সামান্য ঘটনায় এই গুলি চালানো হয়। এখানে কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো
বিক্ষোভ সামলাতে মোতায়েন করা হয়েছিল সিআরপিএফ। আচমকাই তাদেরই এক জওয়ান এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলেন। ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ছাত্র ও একজন এএসআইয়ের মৃত্যু হল।
আসামের নলবাড়ি জেলার এই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, নলবাড়ি জেলার টিহুকে পৃথক মহকুমা ঘোষণার দাবি জানিয়ে মহকুমা প্রস্তুতি পরিষদ ও ছাত্র সংগঠন আসুর নেতৃত্বে আজ সকাল থেকে টিহু চকে, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে অবস্থান বিক্ষোভ চলছিল। বিক্ষোভকারীদের সামলাতে মোতায়েন ছিলেন ২০ জন সিআরপি জওয়ান। সেখানে হাজির ছিলেন বিধায়ক মনোরঞ্জন দাস, প্রাক্তন বিধায়ক মলয়া বর্মন, পানিরাম রাভা, রেখারানি দাস বড়ো। ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক, এসপি।
এসপি বেদান্ত মাধব রাজখোয়া জানান, ‘‘বেলা পৌনে ১১টা নাগাদ প্রতিবাদ শেষের আগে প্রতিনিধিরা যখন এডিসি এম কে বরুয়ার হাতে স্মারকলিপি তুলে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই অমলকুমার দাস নামে সিআরপিএফ-এর এক হাবিলদার তার ঊর্ধ্বতন, এএসআই ডি সি বরদলৈয়ের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর হঠাত্ই ওই হাবিলদার তাঁর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে এএসআইকে গুলি করেন ওই জওয়ান। গুলি লেগে লুটিয়ে পড়েন এএসআই। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।’’
গুলির শব্দ শুনে মানুষ দৌড়োদৌড়ি শুরু করে দেন। কোথা থেকে গুলি চলল পুলিশও প্রথমে তা বুঝতে পারেনি। পরে অমলকুমার দাসকে চিহ্নিত করার পরে অন্য জওয়ানরা তাঁকে রাইফেল ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি রাজি হন না। অন্য জওয়ানরা ও উপস্থিত জনতা তাকে জাপটে ধরতে গেলে তিনি ফের একে ৪৭ থেকে গুলি চালান। গুলিতে জখম হয় নবম শ্রেণির ছাত্র হিমাংশু তামুলি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তারও মৃত্যু হয়।
ব্রজেন বৈশ্য নামে আরও এক ছাত্র, আসু কর্মী দিগন্ত বনিয়া এবং জনার্দন মাহালি, নির্মল দাস-সহ চার সিআরপিএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হন। অন্য জওয়ান ও জনতার মারে গুরুতর জখম হন অমল দাস। তারও অবস্থা আশঙ্কাজনক। জখমদের গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
আসু ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে। ঘটনার নিন্দা করেছে অগপ, কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি প্রভৃতি সংগঠন। পুলিশের পাশাপাশি সিআরপিএফও ঘটনা নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, অমলবাবু ২৪ রাউন্ড গুলি চালিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ টিহুর ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, সিআরপিএফ জওয়ানদের অন্তর্কলহের ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। এসপি জানান, জওয়ানদের ঝগড়ার পিছনে মহিলাঘটিত বিবাদের কথা জানা গিয়েছে। তবে আপাতত কেবল গুলিচালনার ঘটনা নিয়েই তদন্ত হবে। তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইআর





