পররাষ্ট্রমন্ত্রীএএইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, যেসব রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদেরনিষিদ্ধ করার জন্য ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-ভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতরা সুপারিশকরেছেন।
আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
তবে ইইউ ও ওআইসিভূক্ত কোন কোন দেশ এই সুপারিশ করেছে-মন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের নাম উল্লেখ করা ঠিক না। তবে, ফিলিস্তিন ও মিশরসহ কয়েকটি দেশ এমন সুপারিশ করেছে বলে এক পর্যায়ে মন্ত্রী জানান।
মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দফায় বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে আলাপকালে তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে গত বেশ কিছুদিন ধরে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোট যা করছে সে সম্পর্কে তিনি কুটনীতিকদের অবহিত করেছেন।
বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা চলমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে কিভাবে দেখছেন, কিভাবে মূল্যায়ন করছেন তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, কুটনীতিকরা সবাই একবাক্যে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বিশেষ করে বাস, ট্রাকে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
এ ধরনের সহিংসতা কিছুতেই গণতান্ত্রিক কর্মকান্ড হতে পারে না এমন মন্তব্য করে এসব কঠোর হস্তে দমন করতে বিদেশী কুটনীতিকরা সুপারিশ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
যেসব রাজনৈতিক দল এসব কর্মকান্ড করছে, তাদেরকে সরকার ব্যান্ড (বাতিল) করলে তাতে সমর্থন থাকবে বলে ইইউ ও ওআইসিভূক্ত দেশগুলোর একটি অংশ জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, জার্মানিতে হিটলারের নাৎসী বাহিনীর কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করাসহ সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের নজির বিশ্বে রয়েছে।
এদিকে, দল নিষিদ্ধের ব্যাপারে কুটনীতিকদের পরামর্শের বিষয়ে বাংলা জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, "এ বিষয়ে সন্ধ্যায় জানতে চাইলে ঢাকায় নিযুক্ত মিসরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জাত প্রথম আলোকে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিফ্রিংয়ে বিষয়টি আমি তুলেছি। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার কথা বলেছি। কারণ সহিংসতার জন্য আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমাদের মিসরেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আমরা আশা করি এখানেও এ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
"তবে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শায়ের মোহাম্মদের কাছে জানতে প্রশ্ন করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কথা তিনি বিফ্রিংয়ে বলেনি।"
এ সময় তিনি জামায়াত ও হেফাজতের সমালোচনা করে বলেন, হেফাজতে ইসলামের অন্যতম দাবি হলো পঞ্চম শ্রেনীর পর মেয়েরা আর লেখাপড়া করতে পারবে না। এটা কী আমরা মেনে নেব? আমরা কী তাহলে মধ্যযুগে ফিরে যাব?
শুধু কী বিএনপি-জামায়াত জোটই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে ধরে নেয়ার পর লাশ পাওয়া যায়-প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে কুটনীতিকদের সাথে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা অন্য বিষয়। আর প্রতিনিয়ত লাশ পাওয়া যায় এ তথ্য ঠিক নয়।
সবার অংশগ্রহনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই চলমান সংকট সমাধান করা যায় কিনা বা এ ধরনের কোন প্রস্তাব কুটনীতিকদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারা কোন প্রস্তাব দেয়নি।
তবে, এই সমস্যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এবং এটা সরকারকেই সমাধান করতে হবে বলে কুটনীতিকরা মত দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী।
বিরোধী দলকে মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া হলে, সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হলে এমন সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হতো কিনা-জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে অবশ্যই বিরোধীদের মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। তবে, তার আগে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিত্যাগ করতে হবে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে না, সরকার পুলিশ দিয়েই এসব করাচ্ছে-বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরা হলে রাষ্ট্রদূতরা মুচকি হেসেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
গত ৫ই জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে কেন সমাবেশ করতে দেয়া হলো না, কেন তাকে তার অফিসে অবরুদ্ধ করে রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করে তোলা হলো-সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল-ওই সমাবেশ থেকে গণ্ডগোল করা হবে।
তারেক রহমানের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়সহ তার সাম্প্রতিক কর্মকান্ড তুলে ধরে তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে ব্রিটিশ সরকারের কাছে সরকার অনুরোধ করেছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, গত ২৪ সে ডিসেম্বর এক দূতাবাসের গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা হয়েছে এবং সম্প্রতি এক রাষ্ট্রদূতের বেডরুমের কাছে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে-কুটনীতিকরা এমন তথ্য জানালে বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং কুটনীতি পাড়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারের এক বছরের ‘সাফল্য’ ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবারবিকাল ৩টায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকদের (রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ওদূতাবাস প্রধান) দ্বিতীয় দফায় ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ।
এছাড়াবিকাল সাড়ে ৪টায় সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গেপররাষ্ট্রমন্ত্রী আরেকটি ব্রিফিং করেন।
এর আগে, গতসোমবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফিং করেনপররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া, গত ১৪জানুয়ারি ইউরোপীয় দেশ এবং রাশিয়া, নরওয়ে, দি হলি সি ও সুইজারল্যান্ডেররাষ্ট্রদূতদের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীএএইচ মাহমুদ আলী।
কেবি, এসএইচ





