সঙ্গিতের শক্তি এবং বাণির আবেদন দিয়ে ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকান সঙ্গিত জগতকে সমৃদ্ধ করে আসছেন ডিলান। বিশেষ করে ১৯৬০ এর দশকটি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। ডিলানের গান ‘ব্লোয়িং ইন উইন্ড’ এবং ‘দ্য টাইমস দে আর চ্যাঞ্জিং’ তো হয়ে উঠেছিলো আমেরিকান নাগরিক অধিকার এবং যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। তবে সমালোচনাও ছিলো তার বিরুদ্ধে। ফোক গানে রক গানের রীতি ব্যবহারের জন্য সমালোচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরেও কেন তাকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হলো।
১৯০১ সাল থেকে চালু হওয়ার পর প্রতিবছরই সুইডিশ এ্যাকাডেমি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দিয়ে আসছে। কোন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ কোন ব্যক্তিকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। এক্ষেত্রে ডিলানের অবদানের বর্ণনায় যা যা উচ্চারিত হয়েছে তার তাৎপর্য অনেক গভীরে।
সুইডিশ এ্যাকাডেমির স্থায়ী সেক্রেটারি নোবেল জয়ী হিসেবে ডিলানের নাম ঘোষণার সময় বলেন, “আপনারা যদি ৫ হাজার বছর আগে ফিরে দেখেন, তবে হোমার এবং স্যাফোকে পাবেন। তারা অভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপনের জন্য কাব্যিক গ্রন্থ লিখতো এবং বব ডিলানের ব্যপারটিও ঠিক তেমনিই। আমরা এখনও হোমার স্যাফো পাঠ করি এবং উপভোগ করি।” ২৫৯তম আমেরিকান হিসেবে নোবেল জয় করা, ৭৫ বছর বয়স্ক ডিলান সাহিত্যের কিংবদন্তীদের মধ্যে স্থান করে নেয়ার জন্য কী এমন করেছেন?
এর কিছু কারণ:
১. বব ডিলাননের রেকর্ড ১০ কোটিরও বেশি বিক্রি হয়েছে, যা তাকে সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রিত রেকর্ডের শিল্পী হিসেবে পরিচিতি দেয়।
২. পারফর্মার হিসেবে দক্ষতা ছাড়াও গান রচনায় ডিলানের পারদর্শীতা তাকে শ্রোতাদের অতি আপন করে তোলে। গানের কথায় হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া, তীব্র এবং প্রায়ই চাঞ্চল্যকর উপস্থাপনে ডিলানের অসামান্য দক্ষতা, দীর্ঘ সময় ধরেই এক বিস্ময়ের নাম।
৩. এবারের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির আগে ডিলানের ঝুলিতে গেছে ১১টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, একটি এ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, একটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড।
৪. খুব কম সংখ্যক গায়কদের মধ্যে তিনি একজন যিনি কোন একটি নির্দিষ্ট ধারায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ফোক থেকে ব্লুস, কান্ট্রি থেকে গোস্পেল, এবং রক এন্ড রোল থেকে জাজ, সব ধরণের গানই করেছেন তিনি।
৫. গানের মাঝে নতুন কিছু যোগ করার সাহস দেখানোর জন্যও প্রশংসিত এই কিংবদন্তী শিল্পী।
জেড





