গাজার খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালের একজন সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সূত্রটি জানিয়েছে, হামলাটি “হলুদ রেখার” বাইরে ঘটেছে, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে।

উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে আরো চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর গাজার একটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে আগে কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধা প্রবেশ করেছিল। এ সময় কমপক্ষে দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এছাড়া তারা জানিয়েছে, গাজার একজন ব্যক্তি হলুদ রেখা পার হয়ে তাদের জন্য “তাৎক্ষণিক হুমকি” তৈরি করেছিলেন। তবে এ দাবির প্রমাণ দেখানো হয়নি।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও লঞ্চার সংরক্ষণের গুদাম লক্ষ্যবস্তু করেছে। লেবাননের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহ ২০২৩ সালে উত্তরের ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। তবে গাজার ও লেবাননের কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে।

গাজার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ১,৫০০-এর বেশি বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে কমপক্ষে ৫৯১ জন নিহত ও ১,৫৯০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল গাজার ভেতরে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আশ্রয় উপকরণ ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘরের সরবরাহও কঠোরভাবে সীমিত করেছে। প্রায় দুই মিলিয়ন ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে ১.৫ মিলিয়ন বাস্তুচ্যুত, এবং তারা বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলায় ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ১,৭১,৬৬১ জন আহত হয়েছেন। গাজার অবকাঠামোর ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। পুনর্গঠনে খরচ হতে পারে ৭০ বিলিয়ন ডলার।

লেবাননে এক বছরের মধ্যে ইসরায়েলি সেনারা ১০ হাজারের বেশি বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, এই সময়ে কমপক্ষে ১০৮ জন নিরীহ লেবানন ও ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ জন নারী ও ১৬ জন শিশু। এছাড়া কমপক্ষে ১১ জন লেবাননিকে ইসরায়েলি বাহিনী অপহরণ করেছে।

এনএইচ