আমেরিকার তৈরী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমান ত্রুটিপূর্ণ। ৪০০ কোটি ডলার ব্যয়ে তৈরী করা জঙ্গি বিমান এফ-৩৫ কম্পিউটার গোলযোগের কারনে শতভাগ সফল ভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

৪০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ বিমানকে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল জঙ্গি বিমান হিসেবে গণ্য করা হয় এবং চলতি বছর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীতে এ বিমানের ব্যবহার শুরুর কথা রয়েছে।

কিন্তু ২০১৯ সালে আগে এ বিমানের গুলিবর্ষণের পুরো ক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। সম্প্রতি এফ-৩৫এর কম্পিউটার গোলযোগের বিষয়টি ধরা পড়েছে।

মার্কিন বিমান বাহিনী, নৌ ও মেরিন বাহিনীর ব্যবহারের বিষয়টি সামনে রেখে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এর তিনটি সংস্করণ করা হয়েছে।

চলতি বছর মেরিন এবং আগামি বছর মার্কিন বিমানবাহিনীতে এ বিমানের ব্যবহার শুরু হবে বলে কথা রয়েছে। বিমানবাহিনীর এফ-৩৫এর সংস্করণে চারনলা ঘূর্ণ্যমান কামান ব্যবহারের অবকাশ রাখা হয়েছে। কিন্তু সফটওয়্যারকে এ কাজের উপযোগী না করা পর্যন্ত এ কামান ব্যবহার বাস্তব ক্ষেত্রে সম্ভব হবে না।

এ ছাড়া, প্রতি মিনিটে ৩৩০০ গুলি বর্ষণের ব্যবস্থা থাকলে এ যুদ্ধবিমানে মাত্র ১৮০ থেকে ২২০টি গুলি বহনের ক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে, মেরিন ও নৌবাহিনীর এফ-৩৫ সংস্করণের কামানের ব্যবস্থা আলাদা হলেও সেখানেও সফটওয়্যারের সমস্যা রয়েছে। ফলে এফ-৩৫’এর গুলি বর্ষণের পুরো ক্ষমতা সেখানেও ব্যবহার করা যাবে না।

অবশ্য সফটওয়্যার সংকট এবং নির্মাণ ত্রুটির কারণে উৎপাদনে দীর্ঘসূত্রিতা এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ার শিকার হয়েছে এফ-৩৫। ২০০৬ সালে নির্মাণ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এ বিমান তৈরিতে মার্কিন করদাতাদের গাঁট থেকে এ পর্যন্ত ৪০০ কোটি ডলার খসে গেছে।

২০১১ সালে এ বিমানের প্রকৃত নির্মাণের কাজ শুরুর পরে ব্যয় দ্বিগুণে যেয়ে ঠেকেছে। ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প হয়ে উঠেছে।

ইআর