ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সাহায্য দাতা৷ অথচ সেই উন্নয়ন নীতির সাফল্যে বারংবার বাদ সাধে ইইউ-এর অর্থনৈতিক স্বার্থ৷ উদাহরণস্বরূপ আফ্রিকা মহাদেশের কথা বলা যায়৷ সেখানে ইইউ সত্যিই সফল৷
বলতে কি, বিগত কয়েক বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষ করে আফ্রিকায় তার উন্নয়ন সহযোগিতা নীতির মাধ্যমে লক্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে এসেছে: সহস্রাব্দ কর্মসূচির ফলাফল দেখলেই তা বোঝা যায়৷ আফ্রিকায় কি করণীয়, সে বিষয়ে ইইউ দেশগুলি পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অগ্রসর হতে শিখেছে৷ এমনকি আফ্রিকায় জলবায়ু সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইইউ আরো বেশি উদ্যোগী হচ্ছে৷
আফ্রিকায় ইইউ-এর উন্নয়ন নীতির ঘোষিত লক্ষ্য হলো, গুড গভর্নান্স বা সরকারি সুশাসনকে উৎসাহ প্রদান৷ তার পরেই আসছে মানবিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ৷ প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার অথবা ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম – কিছুই বাদ পড়েনি ইইউ-এর এজেন্ডায়৷
এক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় নিকিওয়ে মাসাঙ্গোর৷ চোখ খুলে দেখেন এক লোক তাঁর ওপরে৷ লোকটি বলল, চোখ ঢেকে রাখতে যাতে তাকে চেনা না যায়৷ তারপর সারা রাত ধরে চলল ধর্ষণ৷ দক্ষিণ আফ্রিকার এই নারীর বয়স এখন ৮৭ হয়ে গেলেও সেই রাতের কথা ভোলেননি মাসাঙ্গোর৷ তাঁর এ ছবি তুলেছেন জার্মান ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসের ‘আফ্রিকায় মানবাধিকারের ছবি’ ক্যাটাগরির ফাইনালিস্ট লুঙ্গি মবুলওয়ানা৷
বাদ পড়েছে শুধু অভিবাসন রোধ৷ আফ্রিকা থেকে ইউরোপ অভিমুখে বেআইনি অভিবাসীদের স্রোত রোখাটা ইইউ-এর উন্নয়ন সাহায্য সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলির মধ্যে পড়ে না৷
তবে উন্নয়ন সাহায্যের ক্ষেত্রে সাফল্যের ফলে যে আফ্রিকার মানুষরা স্বদেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সে সম্ভাবনা ব্রাসেলসের অজ্ঞাত নয়৷ যেমন ইথিওপিয়ায় পথঘাট তৈরির জন্য ২০ কোটি ইউরো মঞ্জুর করেছে ইইউ৷ দূর দূর প্রান্তের মানুষজন এই সব পথ ধরে তাঁদের পণ্য নিরাপদে বাজারে আনতে পারবেন৷ ফলে গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্য লক্ষণীয়ভাবে কমেছে৷
একদিকে উন্নয়ন সাহায্য, অপরদিকে সেই আফ্রিকাতেই ইইউ-এর খাদ্য রপ্তানি চলেছে পুরোদমে – এখানেই ইইউ-এর উভয়সংকট৷ তবে এ বছর আফ্রিকাতে খাদ্যপণ্য রপ্তানির জন্য ইইউ-এর ভরতুকি ১৫ কোটি ইউরো ছাড়াবে না৷ বলতে কি, ইইউ-এর কৃষি কমিশনার দাচিয়ান চিওলেস গত জানুয়ারিতে ঘোষণা করেছেন যে, ঐ ভরতুকি পুরোপুরি বাতিল করা হবে – তবে কবে, সে কথাটা তিনি উহ্যই রেখেছেন৷
এছাড়া ইইউ-এর রপ্তানি ভরতুকি থেকে আফ্রিকার ক্ষুদ্র চাষিদের যে সর্বনাশ হওয়ার কথা ছিল, তা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, যেমন ধরা যাক আফ্রিকায় মুর্গির মাংস রপ্তানির দরুণ৷ তবে পোলট্রি রপ্তানির চেয়ে অনেক বেশি বিভীষণ প্রভাব পড়েছে আফ্রিকান দেশগুলির সঙ্গে মাছ-ধরা সংক্রান্ত চুক্তির কারণে৷ ঐ চুক্তির ফলে আফ্রিকার মীনসম্পদ স্থানীয় জনসাধারণের কাজে না লেগে ইইউ-এর জনগণের কাজে আসছে৷ ইইউ-এর মাছ-ধরার জাহাজগুলি আফ্রিকার উপকূলে তাদের জাল ফেলছে৷ ইইউ অবশ্য সেজন্য সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলিকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে আসছে৷ যেমন সেনেগাল পায় বছরে ১ কোটি ১৬ লাখ ইউরো; মোজাম্বিক পায় ৪০ লক্ষের কিছু বেশি; মউরিটানিয়া ৮ কোটি ৬০ লক্ষ ইউরো, ইত্যাদি৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাছ ধরার জাহাজগুলি অবশ্য এর অনেক বেশি মূল্যের মাছ ধরে, বলছে ডাব্লিউডাব্লিউএফ৷
বিশ্বের সরকারি উন্নয়ন সাহায্যের অর্ধেকের বেশি আসে ইইউ-এর দেশগুলি থেকে৷ অপরদিকে উন্নয়ন সাহায্যের ক্ষেত্রে ইইউ গুরুত্ব দেয় তথাকথিত এসিপি বা আফ্রিকা-ক্যারিবিয়ান-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৭৯টি দেশকে, যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তির প্রাক্তন উপনিবেশ৷ ইইউ বর্তমানে এই এসিপি দেশগুলির সঙ্গে ‘ইকনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট' বা অর্থনৈতিক অংশিদারিত্ব চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টায়৷ কিন্তু এই ইপিএ-গুলি সম্পর্কে অক্সফ্যামের মন্তব্য: ‘‘তাদের বর্তমান আকারে এই ইপিএ-গুলি এক ধরনের সুদূরপ্রসারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যা থেকে ইউরোপীয় রপ্তানিকারকরাই প্রধানত লাভবান হন।" সূত্র: ডয়চে ভেলে
[b]ঢাকা, ২২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]
আন্তর্জাতিক
ইইউ-এর উন্নয়ন সাহায্য নীতি: সর্ষের মধ্যে ভূত
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সাহায্য দাতা৷ অথচ সেই উন্নয়ন নীতির সাফল্যে বারংবার বাদ সাধে ইইউ-এর অর্থনৈতিক স্বার্থ৷ উদাহরণস্বরূপ আফ্রিকা মহাদেশের কথা বলা যায়৷ সেখানে ইইউ সত্যিই সফল৷





