আগেই পাওয়া আভাসটা এবার নিশ্চিতই হলো । মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি দেশটির প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন না। এতে সু চির হারানোর বেশি কিছু নেই। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কাগজ-কলমে শীর্ষ পদটি না পেলেও কার্যত তাঁর হাতেই থাকবে নিয়ন্ত্রণ।

গত বছরের নভেম্বরে মিয়ানমারের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জয় পায় সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। এরপর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে যত গোঁজামিলীভাবের শুরু হয় ।

ঘুরেফিরেই আলোচনায় আসে প্রেসিডেন্ট পদের বিষয়টি। সু চির স্বামী ও দুই সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় মিয়ানমারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়া সম্ভব নয়। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পথ খুলতে গত চার মাস ধরে চেষ্টা করেন সু চি। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

সু চির সম্ভাবনা নিয়ে যাঁরা আশায় ছিলেন, তাঁদের জন্য হতাশার খবরটি আসে গত বৃহস্পতিবার। এদিন এনএলডি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দলের প্রবীণ নেতা থিন কিউয়ের নাম প্রস্তাব করে। সু চির ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে থিন কিউয়ের পরিচিতি আছে। সততা ও আনুগত্যের জন্য তাঁকে বাছাই করা হয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

নির্বাচনের আগে সু চি বলেছিলেন, তাঁর দল জয়ী হলে মূল ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকবে।
ইয়াঙ্গুনে এক সংবাদ সম্মেলনে সু চি বলেছিলেন, আমার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি থাকবে।
সু চির সেই উক্তি এখন বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে। পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই এনএলডির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই তাদের দলের প্রার্থী থিন কিউয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত। আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সু চিরই প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে ধারণা করা হয়।

দলের ভেতরে সর্বেসর্বা সু চির কর্তৃত্ব প্রশ্নাতীত। সামনের দিনগুলোতে তিনি অন্তরালে থেকে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে মনে করা হয়। পদ ছাড়াই ক্ষমতার নাটাই হাতে রাখতে পারাটাই বা কম কী।

অনুমান করা হচ্ছে যে, সু চির বক্তব্য অচিরেই প্রতীয়মান হতে যাচ্ছে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু থিন কিউয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে।

 

এমআইএস।