বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার কোন সুযোগ ইরানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। তবে, বিভিন্ন পেশায় বিশেষজ্ঞ এবং কিছু দক্ষ শ্রমিক ইরানে পাঠানোর সুযোগ বাংলাদেশের সব সময়ই রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) হোটেল সোনারগায়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষ দিনে নিজ দেশে ফিরে যাবার প্রাক্কালে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইরানের বিপুল সংখ্যক জনশক্তি রয়েছে যাদের একটি বড় অংশ এখনও বেকার। আর সে কারণেই অপর কোন দেশ থেকে এই মুহুর্তে শ্রমিক আমদানির সুযোগ তার দেশের নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ আরও বলেন, ইরানে বিভিন্ন পেশায় বেশ কিছু বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞ কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি আরও কিছু দক্ষ শ্রমিক তার দেশে পাঠানোর সুযোগ বাংলাদেশ গ্রহণ করতে পারে।

সিরিয়া ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিরিয়ার ব্যাপারে ইরানের নীতি স্পষ্ট। আর তা হলো-সিরিয়ার জনগণেরই রয়েছে তার দেশের সমস্যা সমাধানের এখতিয়ার। এজন্য বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার কোন বিকল্প নেই। আর এ নীতি ইয়েমেনের বেলায়ও ইরান গ্রহন করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করেছে। তারা সব সময়ই এসব দেশে সংঘাত ও গৃহযুদ্ধ লেগে থাকুক সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো গণহত্যার ব্যাপারে ইরানের অবস্থান কি-জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি-রোহিঙ্গা মুসলমাদেরকে তাদের মানবিক ও নাগরিক অধিকার দিতে হবে।

বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, এনার্জি ও শিক্ষাখাতসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে কাজ করতে ইরান আগ্রহী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো ইরানের প্রাইভেট সেক্টরে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে এবং উভয় দেশের প্রাইভেট সেক্টর একযোগে কাজ করলে দুই দেশের স্বার্থেই তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সন্ত্রাস ও চরমপন্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সন্ত্রাস আর ধর্ম এক নয়। যারাই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছে তারা মোটেই ধার্মিক নয়। ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক নেই।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইএসসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মানুষের ধর্মীয় চেতনাকে উস্কে দিয়ে এবং তাদের আবেগকে হঠকারীমূলকভাবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে, যার সাথে প্রকৃত ইসলাম ও মুসলমানদের মোটেই সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, এসব সন্ত্রাসীদের বেশিরভাগেরই মূল শিকড় আমেরিকা ও ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে। পশ্চিমারা রাজনৈতিক স্বার্থে এসব গোষ্ঠীকে ব্যবহার করছে যা বন্ধ হওয়া জরুরী।

সফররত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইরান সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে একসাথে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যতটুকু আলাপ-আলোচনা হয়েছে তাতে এসব বিষয়ে সন্তোষজনক সাড়া মিলেছে বলেও জানান তিনি।

চীন-ভারত ও পাকিস্তানের সাথে যে গ্যাস পাইপলাইন কার্যকলাপ নিয়ে কাজ করছে ইরান- সেই প্রকল্পে বাংলাদেশকেও অন্তর্ভূক্ত করা যায় কীনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা একটা বড় প্রকল্প। এখানে বাংলাদেশ অন্তর্ভূক্ত হলে ভালোই হবে।

এই গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে ইতোমধ্যেই চীনের সাথে আলাপ হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ইরান ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

পৃথিবীর অন্যতম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাথে সব সময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ইরানের রয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ব্যাপারে ইরান আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত  ড. আব্বাস ভয়েজি দেহনাভিসহ ইরানি দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিমান যোগে ইরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কেবি