ইসরাইলের কট্টর ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী। আগামীকাল মঙ্গলবার দেশটিতে অনুষ্ঠিত হবে পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনের একদিন আগে এরকম আশাবাদ ব্যক্ত করলেন মধ্য বামপন্থী দলের নেতা ইয়াইর লাপিদ। খবর রয়টার্সের।
বিভিন্ন জরিপ থেকেও দেখা যাচ্ছে, এবার নেতানিয়াহু যুগের অবসান ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ইসরাইলিরা এখন ইরানকে ভয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলোতে বেশি আগ্রহী। নেতানিয়াহুর উগ্র ইহুদিবাদী লিকুদ পার্টির অন্যতম রাজনৈতিক হাতিয়ার হচ্ছে ইসরাইলিদেরকে ইরানের ভয় দেখানো।
প্রাক্তন টেলিভিশন সংবাদ ও অনুষ্ঠান উপস্থাপক ইয়াইর লাপিদের মধ্য-বামপন্থী দল ইয়েশ আতিদ পার্টি ২০১১ সালের নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে। নতুন দল হয়েও তা নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল।
৫১ বছর বয়সী লাপিদের যুক্তি হচ্ছে, ইসরাইলিরা এবার পরিবর্তন চায়। এক সাক্ষাৎকারে লাপিদ বলেন, "নেতানিয়াহু যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। কারণ এখন আমাদের জন্য নিরাপত্তা ইস্যুটি প্রধান নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোই এখন প্রধান।"
লাপিদ এক সময় নেতানিয়াহু মন্ত্রী পরিষদের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না কখনোই।
এদিকে, টানা চারবারের মতো ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারে আশাবাদী নেতানিয়াহু। এবার জয়ী হলে ইসরাইলের ইতিহাসে তিনিই হবেন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণার মূল ইস্যু হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভয় দেখানো এবং গাজার ইসলামপন্থী সশস্ত্র গ্রুপগুলোর তৎপরতার ভয় দেখানো।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া তার ভাষণের পর থেকে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা দেশে ও দেশের বাইরে কমতে থাকে। তাই এই ভাষণকেই ধরে নেয়া হচ্ছে নেতানিয়াহুর জন্যে টার্নিং পয়েন্ট। নেতানিয়াহুর এ ভাষণকে গতানুগতিক এবং এতে নতুন কিছু নেই বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার ইরান ইস্যুটিও এখন আর খুব বেশি কাজ করছে না।
গত শুক্রবারের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, জায়োনিস্ট ইউনিয়ন ও মধ্য বামপন্থী দলের জোট নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি থেকে চারটি আসন বেশি পাবে।
এমএ





