পিএমকে এবং এমডিএমকে’র পর এবার হিন্দি নিয়ে 'বিদ্রোহ' ঘোষণা করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে জোর করে হিন্দি ঢুকতে দেয়া হবে না।
তামিলনাড়ুর আন্না বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলাগপ্পা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউজিসি’ সার্কুলার পাঠিয়ে বলেছে, ইংরেজির সঙ্গে পড়াতে হবে হিন্দিও। এতে স্নাতকস্তরের সমস্ত বিষয়ে ইংরেজির সাথে হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে ‘ইউজিসি’। একই সাথে বাণিজ্য এবং আইনেও হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর উল্লেখিত দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্কুলার পাঠায় ইউজিসি।
মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা এই সার্কুলারকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘বেআইনি’ বলে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তাছাড়া সরকারি ভাষা আইন অনুযায়ী এভাবে কোনো ভাষাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন জয়ললিতা।
উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্র সরকারের দুই শরিক দল পিএমকে এবং এমডিএমকে হিন্দি নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। পিএমকে’র প্রতিষ্ঠাতা এস রামাডস ও এমডিএমকে সুপ্রিমো ভাইকো আলাদা আলাদা বিবৃতি দিয়ে হিন্দি নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষক দিবসের নাম গুরু উৎসব রাখা এবং সংস্কৃত সপ্তাহ উদযাপনের জন্য কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।
ডিএমকে প্রধান এম করুণানিধি এর আগে অভিযোগ করেছেন, সরকার তামিল ভাষা ও সংস্কৃতিকে ছোট করার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি হিন্দি দিবস উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং হিন্দি ভাষার পক্ষে ব্যাপক সাফাই গেয়েছিলেন। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, মাতৃ ভাষা না হওয়া সত্ত্বেও দেশের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ হিন্দি ভাষা বোঝেন। ৫৫ শতাংশ হিন্দিতে কথা বলেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
রাজনাথ আরও বলেছিলেন, সংস্কৃত হল সব ভারতীয় ভাষার মা। হিন্দি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষা হল বোনের মত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসন্ন জাতিসংঘ সফরে গিয়ে হিন্দিতেই ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
হিন্দি নিয়ে রাজনাথ সিং এসব মন্তব্য করলেও হিন্দি ভাষাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়াকে তামিলনাড়ু কোনোভাবেই যে মেনে নেবে না তা সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর একের পর এক বিরোধিতাতেই স্পষ্ট হচ্ছে। সূত্র: আইআরআইবি।
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





