গৃহকর্মী নির্যাতনে গ্রেফতারকৃত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে নিউইয়র্ক আদালত।

এর আগে বাংলাদেশী কূটনীতিককে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।

এমনকি মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কূটনীতিককে গ্রেপ্তার ১৯৬৩ সালের ‘ভিয়েনা কনভেনশনের’ লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৬ সালের মে মাসে যখন ওই গৃহকর্মী শাহেদুল ইসলামের বাসা থেকে নিখোঁজ হন, তখনই বিষয়টি স্টেট ডিপার্টমেন্টকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু গত ১৩ মাসে বিষয়টির কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনকি কূটনীতিককে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের অগ্রগতি জানানোও হয়নি বাংলাদেশকে।

বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সে’র কাছে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি নিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানানো হয়েছে।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে নিউইয়র্কের কুইনস বরো থেকে গত সোমবার সকালে শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বাংলাদেশের ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিউইয়র্কে তাঁর বাসায় এক বাংলাদেশি গৃহকর্মীকে তিনি তিন বছরের বেশি সময় ধরে সহিংস নির্যাতন চালাচ্ছেন। এ ছাড়া তিনি হুমকি দিয়ে বিনা বেতনে ওই গৃহকর্মীকে কাজ করতে বাধ্য করেছেন।

কুইনস কাউন্টির অ্যাটর্নির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত বিশদ বিবরণও রয়েছে। বিবরণে বলা হয়, মোহাম্মদ আমিন নামের ওই শ্রমিক (গৃহকর্মী) যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পরই শাহেদুল ইসলাম তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেন। এরপর তাঁকে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করেন।

আনুমানিক ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মে মাস পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থ ছাড়াই ওই গৃহকর্মীকে বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এরপর ওই গৃহকর্মী গত বছর মে মাসে পালিয়ে যান। এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। জেড