কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলোয় মাঝে-মধ্যেই আচমকা হানা দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজে ফাঁকি চোখে পড়লে হাসপাতালের বড় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাফাইকর্মী, কাউকেই মাফ করেন না তিনি। এই দৃশ্যের সঙ্গে কলকাতাসহ রাজ্যবাসী পরিচিত। এবার একই ধরনের ঘটনা দেখা গেল দিল্লিতে।

সরকারি হাসপাতালের বাইরে রোগীদের ভিড়, দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে অপেক্ষা- এগুলোই পরিচিত ছবি। কিন্তু সেই সময়ে হাসপাতালের ভেতরে কর্মীরা কী করেন? সবাই যে ফাঁকি মারেন- এমনটা নিশ্চয় নয়।

কিন্তু কয়েকজন কর্মী যে সরকারি চাকরির সুবিধা নিয়ে অফিসে এসে কাজে চূড়ান্ত ফাঁকি দেন- তার প্রমাণ আবারও হাতেনাতে পাওয়া গেল। সাক্ষী থাকলেন খোদ দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া। দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে সম্প্রতি আচমকা হানা দিয়েছিলেন তিনি।

হাসপাতালের তখন রোগীর অনেক ভিড়। কাউন্টারে, কাউন্টারে লম্বা লাইন। এরই মধ্যে মণীশ শিশোদিয়ার নজর যায় এক কর্মীর দিকে। বাইরে যখন রোগীর লম্বা লাইন, তখন নিজের আসনে বসে দিব্যি কম্পিউটারে সিনেমা দেখছিলেন ওই কর্মী।

সিনেমা দেখায় তিনি এতটাই মগ্ন ছিলেন যে; খোদ উপ-মুখ্যমন্ত্রী তার পিছনে এসে দাঁড়ালেও তিনি টের পাননি। মণীশ শিশোদিয়া তাকে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে ডাকতেই সম্বিত ফেরে ওই কর্মীর। ভ্যাবা-চ্যাকা খেয়ে যতক্ষণে কম্পিউটারে চলতে থাকা সিনেমা বন্ধ করলেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এরপর দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী তাকে ধমকাতে শুরু করেন।

ওই কর্মীর তখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। তিনি কার অধীনে কাজ করেন তাও জানতে চান মণীশ। বাইরে যখন রোগীর লম্বা লাইন তখন কীভাবে তিনি অফিসে এসে সিনেমা দেখছেন, ওই কর্মীকে সেই প্রশ্নও করেন দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী।

অভিযুক্ত কর্মী বারবার অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি। ওই দফতরের ইন্সপেক্টরকে অবিলম্বে ওই কর্মীকে সরিয়ে দিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মণীশ। এ ঘটনার একটি ভিডিও আম আদমি পার্টির নিজস্ব ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়েছে।

এসএ/টাইম-সূত্র: এবেলা