মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গণনা নিয়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন। ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন ও রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। খবর বিবিসি’সহ বিভিন্ন মিডিয়া’র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা চলছে। মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৮ টি, জিততে হলে প্রয়োজন ২৭০টি ভোট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখন পর্যন্ত জো বাইডেন পেয়েছেন ২৬৪টি ভোট। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪টি ভোট।
চারটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোট গণনা বন্ধের দাবিতে মামলা করেছেন ট্রাম্প। রাজ্যগুলো হলো- জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভ্যানিয়া ও উইসকনসিন।
তবে ততক্ষণে মিশিগান ও উইসকনসিন রাজ্যে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে জো বাইডেনকে।
অ্যারিজোনায় ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ
অ্যারিজোনার মেরিকোপা কাউন্টির একটি ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে রিপাবলিকান সমর্থক বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেয়ার পর ভোট গণনা বন্ধ করবে নাকি করবে না- এমন দ্বিধায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ।
ট্রাম্পের পক্ষে পড়া ভোট গণনা করা হবে না - সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্পের সমর্থকেরা ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেয়। অনেক বিক্ষোভকারী ভোটকেন্দ্রে ঢুকে পড়ার পর তাদেরকে আবার বাইরে বের করে আনা হয়। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ডাকলেও গণনাকারীরা তাদের গণনা বন্ধ করেনি।
অ্যারিজোনার ফল কি হবে তা এখনো ধারণা করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) বেলা ১২ টা পর্যন্ত মেরিকোপা কাউন্টির ৮২% ভোট গণনা শেষ হয়েছে যেখানে জো বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন। এখনো ৪ লাখ ভোট গণনা বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফিনিক্স শহরটিও এই কাউন্টির অংশ। ঐহিত্যগতভাবে এটি রিপাবলিকান রাজ্য হলেও সম্প্রতি এটি দোদুল্যমান রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
ভোট গণনার উত্তেজনার মধ্যেই বিক্ষোভ শুরু
নির্বাচনী রণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে যখন টানটান উত্তেজনা চলছে ঠিক তখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বিক্ষোভ।
পোর্টল্যান্ড,ওরেগনে প্রতিটি ভোট গণনার দাবিতে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিক্ষোভ থেকে কিছু মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে সিটি সেন্টারে কিছু দোকানের জানালা ভাঙচুর করেছে। একে দাঙ্গা বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
এদিকে মিনিয়াপোলিসে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী রাস্তা দখল করলে সেখান থেকে কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিক্ষোভকারীরা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ভোট বন্ধের আহ্বানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন।
একই ধরণের বিক্ষোভ হয়েছে নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া এবং শিকাগোতে।
ডেট্রয়েটে, ট্রাম্প সমর্থকরা ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়ে “ভোট গণনা বন্ধ করো” বলে স্লোগান দিতে থাকে। সেসময় জানালা ভাঙচুর করে তারা। অ্যারিজোনার ফিনিক্সেও একই ধরণের ছোটখাটো বিক্ষোভ হয়েছে।
পেনসিলাভানিয়ায় ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া কনভেনশন সেন্টারের বাইরে ট্রাম্প বিরোধীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
ঐ কনভেনশন সেন্টার ভবনে মেইলের মাধ্যমে আসা ব্যালটগুলো জড়ো করে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে লক্ষ লক্ষ ব্যালট গণনা শেষ করতে একাধিক দিন লেগে যেতে পারে।
বিক্ষোভ সমাবেশে প্রত্যেকটি ভোট গোনার স্বপক্ষে স্লোগান দেয়া সমর্থকদের অনেকে ট্রাম্প পুনঃর্নর্বিাচিত হওয়ার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্পের একটি সংবাদ সম্মেলনে আসা সাংবাদিকদেরও সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা।
ঐ সংবাদ সম্মেলনটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।
ট্রাম্পের আহ্বানে কান দিলেন না পেনসিলভানিয়ার গভর্নর
ভোট গণনা বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণা দলের আহ্বান উপেক্ষা করে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর টম উলফ জানিয়েছেন, তার রাজ্যে ভোট গণনা চলবে।
এর আগে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, পেনসিলভানিয়ায় ভোট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছে ডেমোক্র্যাটরা।
প্রচারণা দলের ডেপুটি ব্যবস্থাপক জাস্টিন ক্লার্ক বলেন, ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান ভোট বঞ্চিত করে সেগুলো কমিয়ে দেখানোর পরিকল্পনা করছে। তবে সেখানে ভোট জালিয়াতি কিংবা অনিয়মের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
“গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর এমন চেষ্টা লজ্জাজনক,” বলেন ডেমোক্র্যাট গভর্নর মি. উল্ফ। “প্রত্যেক পেনসিলভানিয়াবাসীর ভোটের অধিকার রক্ষায় আমি লড়ে যাবো। প্রতিটি ভোট যাতে গণনা করা হয় তার জন্য আমার সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা করবো।”
এমবি





