সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে অতিশীঘ্রই ইসরাইলের ঘোষণা করা হবে বক্তব্য দেয়ায় ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ৩ দেশ ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক। পাশাপাশি এই হুঁশিয়ারিকে সমর্থন জানিয়েছে আরব রাষ্ট্রগুলো নিয়ে গঠিত সংস্থা আরব লীগ।
অতিশীঘ্রই গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের বৈধ অঞ্চল বলে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে শুক্রবার ট্রাম্পের দেওয়া এক বক্তব্যের পরপরই এই হুঁশিয়ারি দেয় দেশগুলো।
১৯৬৭ সাল থেকে সিরিয়ার এই গোলান মালভূমিকে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে ইসরাইল। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইসরাইল সফরের পরপরই ট্রাম্প এই ঘোষাণা দেয়। এটি ভয়ানক সংকটে রুপ নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।
কারণ ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে গোলান মালভূমি নিয়ে ইসরাইলের সাথে নতুন যুদ্ধে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে সিরিয়া। এই বিষয়ে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে এক বিবৃতি দেয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ার গোলান মালভূমি নিয়ে ইসরাইলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতাপূর্ণ আইনের মাধ্যমে একচেটিয়া অবৈধ ইসরাইলকে সমর্থন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইলকে গোলান অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার আহবান জানায় সিরিয়া। জাতিসংঘে সিরিয়ার দূত বাশার জাফারি এই আহবান জানান।
তিনি বলেন, গোলান মালভূমিতে উত্তেজনার বিষয়ে অবশ্যই জাতিসংঘকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয় নিয়ে আগামী বুধবার আলোচনায় বসবে জাতিসংঘ এবং এই অঞ্চলে শান্তি আনয়নে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী পুনরায় পাঠনোর বিষয় আলোচনা হবে বলে জানানো হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি নতুন সংকট তৈরি করবে বলে হুশিয়ারি করে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
শুক্রবার ইস্তানবুলে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক জরুরি বৈঠকে তিনি বলেন, গোলান মালভূমিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গতকালের দুর্ভাগ্যজনক বিবৃতি এ অঞ্চলকে নতুন সংকটের প্রান্তে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, গোলান মালভূমিতে দখলদারিত্ব বৈধকরণ করা হলে তা আমরা মেনে নেব না। এ রকম স্পর্শকাতর বিষয়ে ওআইসি নিরব থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন এরদোগান।
অপরদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কঠিন নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাশেমি বলেন, ট্রাম্প বললেই গোলান মালভূমি যে ইসরাইলের হয়ে তা নয়। দখলদারি ইসরাইলিদের কোন অধিকার নেই মুসলমানদের ভূখন্ডের ওপর। অতি শীঘ্রই তাদের এই আগ্রাসনের অবসান ঘটনো হবে।
তিনি আরও বলেন, গোলান মালভূমি নিয়ে সমাধান একটাই সেটা হচ্ছে ইসরাইলের আগ্রাসন থেমে দেয়া।
ইরান ও তুরস্কের পাশাপাশি এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মিশর।
উল্লেখ্য, এর আগে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং দূতাবাস স্থানান্তর করে যুক্তরাষ্ট্র। যার কারণে বিশ্ববাসীর সমালোচনায় পড়ে ট্রাম্প এবং ট্রাম্পের নীতি। এখন পুনরায় গোলান মালভূমির প্রতিশ্রুতি নতুন ভয়ানক সংকটের জন্ম দিতে পারে। কারণ ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্ক না থাকলেও সিরিয়া ইস্যুতে যুক্ত আছে যুদ্ধ ও রাজনীতি।
জেড





