আমেরিকায় ৫০টি পরমাণু বোমা তৈরির উপযোগী প্রায় ৩৩০ কিলোগ্রাম প্লুটোনিয়াম পাঠাবে জাপান। গবেষণায় ব্যবহৃত তেজষ্ক্রিয় পদার্থ ফেরৎ দেয়া সংক্রান্ত ২০১৪ সালের চুক্তির আওতায় এ প্লুটোনিয়াম পাঠানো হবে। ওয়াশিংটনে পরমাণু নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনের আগে প্লুটোনিয়াম পৌঁছাবে।

মার্চের শেষ দিকে আমেরিকার দক্ষিণ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের একটি পরমাণু স্থাপনায় এ প্লুটোনিয়াম পৌঁছাবে। জাপানের শিক্ষা দফতরের পরমাণু প্রযুক্তি শাখার এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কয়েক দশক আগে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এসব উপাদান জাপানকে সরবরাহ করেছিল। বর্তমানে টোকিও’র নিউক্লিয়ার সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ব্যাপক পরিমাণ প্লুটোনিয়াম মজুদ রাখা হয়েছে।

জাপানে মজুদ প্লুটোনিয়াম নিয়ে ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তি শুরু হয়। তৎকালীন জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো আসো বলেছিলেন, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পরমাণু বোমা বানাবে না টোকিও। তার এ মন্তব্যের জের ধরে আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তি দেখা দিয়েছিল।

বিশ্বে একমাত্র জাপানেই পরমাণু বোমার হামলা হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে গৃহীত নীতির আওতায় জাপানের মাটিতে পরমাণু বোমা বানানো বা মোতায়েনের অনুমতি নেই। অবশ্য ২০১০ সালে জাপান সরকার স্বীকার করেছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সই হওয়া গোপন চুক্তির আওতায় জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের মার্কিন ঘাঁটিতে পরমাণু বোমা রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষের দিকে জাপানের পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরও দেশটির হিরোশিমা ও নাগাসাকি নগরীতে আণবিক বোমা হামলা করে আমেরিকা। এতে জাপানের দুই লাখ ১০ হাজারের বেশি নাগরিক নিহত হয়।

এমএম