২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গোটা ভারতে এই দিনটি পালন করা নিয়ে উৎসাহের অন্ত নেই। যোগের 'যোগবলে' অনেকেই ভালোমতো করে-টরে খাচ্ছেন।

অনেক যোগগুরু-ই বিভিন্ন সময় অন্য কারণে খবরের শিরোনামে এসেছেন। এই গুরু-রা যোগের ক্লাসে যোগকেই বিয়োগ করে যৌনতাকেই মুখ্য করে তুলেছিলেন। ভারতের এমনই পাঁচ গুরুর কীর্তি দেখে নেওয়া যাক।

১. বিবেক মিশ্র: একে আধুনিক কালে ন্যাকেড যোগের প্রবর্তক বলা চলে। এর ক্লাসে বলিউড থেকে পেড থ্রি-র বহু সেলিব্রিটি নিয়মিত মুখ দেখান। ইনি তো সরাসরিই বলেন, ন্যুড যোগ মানুষের ভিতরকার কুণ্ঠা দূর করে দেয়। ইনি জনপ্রিয় টিভি বিয়েলিটি শো বিগ বস-এও মুখ দেখিয়েছেন। বিতর্কে-স্ক্যান্ডালেও জড়িয়েছেন বহুবার।

২. বিক্রম চৌধুরি: হঠ যোগ শুনে কিছু মনে পড়ছে? যদি না পড়ে তবে এক বার ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখতে পারেন। সবার প্রথমেই তার নাম ভেসে উঠবে। ভারত থেকে মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমিয়ে হঠ যোগের ক্লাস চালু করেন বিক্রম। ক্রমেই তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

তার ক্লাসে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ২৬টি যোগাসন অভ্যাস করানো হতো। ইনিও হোমড়া-চোমড়াদের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন। তবে একাধিক মহিলা তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনার পর কোনো ব্যক্তির প্রভাবই তাকে রক্ষা করতে পারেনি। জনমানসে যথেষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়।

৩. স্বামী সত্যানন্দ: ইনিও ভারত ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে যোগের আশ্রম খোলেন। তবে তার সেক্স স্ক্যান্ডালে জড়াতেও বিশেষ সময় লাগেনি। আশ্রম নিবাসী মহিলা এবং শিশুদের অনেক দিন ধরে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে অস্ট্রেলিয়া সরকারের তরফ থেকে কমিশন এর তদন্ত করে এবং সত্যানন্দ দোষী প্রমাণিত হন।

৪. স্বামী শঙ্করানন্দ: নিজেকে ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার প্রতিনিধি বলে সকলকে পরিচয় দিতেন স্বামী শঙ্করানন্দ। ইনিও ভারত ছেড়ে আমেরিকার মাউন্ট এলিজায় নিজের আশ্রম খোলেন।

আশ্রমে থাকা বহু মহিলা শঙ্করানন্দের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা এবং ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন। পরে অবশ্য কৃতকর্মের জন্য তিনি 'ভক্তদের' কাছে ক্ষমাও চান।

৫. ধীরেন্দ্র ব্রহ্মচারী: ইনি বেশ হেভিওয়েট নাম। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিয়ার গান্ধীর যোগ মেন্টর বলা হত তাকে। একাধারে যোগগুরু অন্য দিকে অস্ত্র তৈরির কারখানাও ছিল তার।

কাশ্মীরে বেনামে প্রচুর জমি জোর করে দখল করারও অভিযোগ ছিল তার নামে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় যৌনতা নিয়েও বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। ১৯৯৪ সালে একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।– ওয়েবসাইট।

এসএইচ