আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভিআইপি 'হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে' বন্দুকধারীদের হামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও এই হামলায় আরও ২২ জন আহত হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক এবং চারজন আফগান নাগরিক। তবে কিছু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৯টার দিকে এই হামলা চালানো হয়। প্রথমে এই হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও পরবর্তীতে হামলার দায় স্বীকার করে নেয় তালেবান জঙ্গি গোষ্ঠি।
তাদের ভাষ্যমতে নিরাপত্তা কর্মীদের উদ্ধার তৎপরতায় তাদের হামলাকারী ৫ জন সদস্যই নিহত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কর্মীদের দাবি তারা ৪ জঙ্গির দেহ শনাক্ত করতে পেরেছে।
ঘটনাস্থলে বন্দুকধারীরা সেনাবাহিনীর পোশাক পরে প্রবেশ করে। আফগানিস্তানের সাথে জঙ্গিদের বিশেষ বাহিনীর প্রায় ১২ ঘণ্টা লড়াই চলে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বন্দুকধারীদের প্রতিহত করে বিলাসবহুল ওই হোটেলের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে হামলাকারীরা নিহত হয়েছে। প্রায় ১৬০ জন বেশি জিম্মিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসামরিক কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জন ওই হামলায় আহত হয়েছে। তারা আরও জানায় নিহত এবং আহদের মধ্যে আফগান এয়ারলাইন কোম্পানি 'ক্যাম এয়ারের' কিছু কর্মচারী রয়েছে। কারণ তারা হোটেলটিকে কর্মচারীদের থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করত। এছাড়া ইউক্রেনের নয় নাগরিক, এক জার্মানি, গ্রিসের একজন এবং কাজাখস্তানের একজন নাগরিকের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনও আরও দু’জনের পরিচয় জানা যায়নি।
বন্দুকধারীরা শনিবার রাতে হোটেলটিতে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা হোটেলে থাকা অতিথি এবং কর্মচারীদের ওপর গুলি বর্ষণ করে এবং গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালায়।
দেশটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ জানান, স্পেশাল ফোর্স পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। হামলাকারীরা হোটেলে যে কয়েকজনকে জিম্মি করে রেখেছিল তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বন্দুকধারীদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীও ছিল।
জেড
















