ফিলিপাইনে টাইফুন হাগুপিটের আঘাতে কমপক্ষে ২১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে পূর্বাঞ্চলের সামার দ্বীপে ২১০ কিলোমিটার বেগে এ টাইফুন আঘাত হানে। তবে এখন টাইফুনের তীব্রতা কমে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং এটি ধীরে ধীরে ফিলিপাইনের রাজধানীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ফিলিপাইন রেডক্রসের মহাসচিব জিওয়েনদোলেন পাং সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, টাইফুনে কেবল সামার দ্বীপেই ১৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তবে হাগুপিটের আঘাতে যে ধরণের ক্ষতির আশংকা করা হয়েছিল তার চেয়ে কম ক্ষতি হয়েছে।

গত বছর শক্তিশালী সুপার টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া টাকলোবান নগরীতে এবার তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতি হয়েছে।

টাইফুন আঘাত হানার আগে দক্ষিণাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে তাদের অনেকে এখন নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যাচ্ছেন।

আলবে প্রদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি লোককে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ এখন তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার আহবান জানিয়েছে।

হাগুপিটের প্রভাবে ম্যানিলার বাসিন্দারা এখন প্রবল বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড ঝড় মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফিলিপাইনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, টাইফুন এখন পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে।

সোমবার সরকারের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় আগামী ২৪ ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও কমপক্ষে দুই মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলার প্রস্তুতিও নিতে বলা হয়েছে।

উপকূল ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত হাজার হাজার লোককে সোমবার সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রাজধানীতে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ লোক বাস করে।

ম্যানিলার মেয়র জোসেফ এসট্রাদা বলেন, নগরীতে সবাই প্রস্তুত রয়েছে। তবে সম্ভাব্য বন্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।

ফিলিপাইন স্টক এক্সচেঞ্জ ও ফিলিপাইনের ব্যাংকার্স সমিতির পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক বাজারগুলো সোমবার বন্ধ থাকবে। রাজধানীতে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে, বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল ও সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ফিলিপাইনে সুপার টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে ৭ হাজার ৩৫০ জনেরও বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছিল।

এমএ