দেশজুড়ে গোরক্ষার নামে বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে গঠিত এক বেঞ্চ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে এ নির্দেশ দেন। নির্দেশে বলেন, স্বঘোষিত গোরক্ষকদের তাণ্ডব রুখতে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

শুধু নির্দেশই নয়, সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, প্রতিটি রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট পদমর্যাদার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ দায়িত্বে নিযুক্ত করতে হবে। তাঁর কাজই হবে গোরক্ষার নামে সব ধরনের বাড়াবাড়ি বন্ধ করা।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতি রাজ্যের মুখ্য সচিবদের রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই রিপোর্ট দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকেও।

কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গোরক্ষার নামে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রথম সিদ্ধান্ত হলো, বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধ করা। এরপর চলতি বছরের গোড়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এক নির্দেশে জবাইয়ের জন্য গরু কেনা-বেচা নিষিদ্ধ করা হয়। উত্তর প্রদেশে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ‘অবৈধ’ ও বেআইনিভাবে চলা কসাইখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই ব্যবস্থা গ্রহণ করে অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকারগুলো। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে অশান্তি দেখা যায়। স্বঘোষিত গোরক্ষকেরা গোমাংস খাওয়া, গোমাংস বাড়িতে রাখা ও গরু পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন রাজ্যে মানুষ পিটিয়ে মারতে শুরু করে।

আজ সুপ্রিম কোর্ট এসব উদাহরণ টেনে বলেন, এক শ্রেণির মানুষ গোরক্ষার নামে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়েছে। তাদের আচরণ এমন যেন তারাই আইন এবং তাদের কথাই শেষ কথা।

এই বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে কেন্দ্র কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, জানতে চাইলে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, অবাঞ্ছিত ঘটনার মোকাবিলায় নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। এই উত্তরে বিরক্ত প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, ‘আইন যে আছে, সে কথা আমরাও জানি। কিন্তু উপদ্রব বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটাই জানতে চাওয়া হচ্ছে। সরকারের উচিত পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে এ ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনা না ঘটে।’
গোধন রক্ষার নামে তাণ্ডব রুখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মানবাধিকারকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালা। গোরক্ষার নামে দলিত ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে অত্যাচার শুরু হয়েছে, তা বন্ধ করতে সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ কামরা করেছিলেন তিনি।

এমএ