প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের আমলে প্রথম বিদেশী রাষ্ট্রনেতা হিসেবে ফিলিপাইন সফরে গিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য প্রতিযোগিতার মাঝে জাপানি পণ্যের বাজার বিস্তারের আক্ঙ্ক্ষায় জাপানি প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে ঐতিহাসিক সফর করছেন।

দুই দিনের সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) শিনজো আবে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা পৌঁছান। সফরকালে তিনি প্রেসিডেন্ট দুতের্তের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হবেন। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) স্ত্রীকে সাথে নিয়ে দুতের্তের জন্মশহর দাভাও পরিদর্শনে যাবেন আবে। এখানে দেশটির ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করবেন। এজন্য ২০ জনের বেশি জাপানি ব্যবসায়ী তার সফরসঙ্গী হিসেবে ফিলিপাইনে এসেছেন।

দুর্তেতের আমলে প্রথম বিদেশী রাষ্ট্রনেতা হিসেবে ফিলিপাইন সফরকে ‘অসাধারণ সম্মানের’ বলে মন্তব্য করেছেন আবে। তিনি বলেন, ‘আমি চলতি বছর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ফিলিপাইনকে বেছে নিয়েছি। এটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আমার সদিচ্ছার প্রমাণ দেয়। এ সম্পর্ক অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ফিলিপাইনের অন্যতম বড় একক বিনিয়োগকারী দেশ জাপান। জাপানি জায়ান্ট টয়োটা, মিতসুবিশি, ক্যাননসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ রয়েছে দেশটিতে। দেশটির ইলেকট্রনিকস, আর্থিক সেবা, প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করেছে। এখন দেশটির অবকাঠামো ও কৃষিখাতে নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান।

প্রসঙ্গত, রদ্রিগো দুতের্তে ক্ষমতা নিয়েই দেশে ব্যাপক মাদক বিরোধী অভিযান শুরু করেছেন। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৬ হাজারেরও বেশি ফিলিপিনো। পশ্চিমা দেশগুলো এ কারণে তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। জাতিসংঘ স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন সময় বিতর্কিত নানা মন্তব্য করে বেশ সমালোচিত হয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গালি দেওয়ায় তিনি দুতের্তের সাথে বৈঠক বাতিল করেন। দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ায় গত বছরের পুরোটা সময় আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। এ কারণে দুতের্তের ক্ষমতা নেয়ার পরে প্রথম বিদেশী রাষ্ট্রনেতা হিসেবে শিনজো আবের এ সফর বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। সূত্র: রয়টার্স ও মার্কেটস ইনসাইডার

mh