উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি রাজ্য ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে বামফ্রন্ট। এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাদের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাজ্যটির ৩১৭৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ৩ মার্চ।

রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রে রয়েছে বৈদ্যুতিক ভোটগ্রহণ যন্ত্র ইভিএম। বিভিন্ন বুথে ইভিএমের প্রাথমিক ত্রুটির কারণে ভোটগ্রহণ দেরিতে শুরু হয়।

নির্বাচন উপলক্ষে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে আধা সামরিক বাহিনী। কাজেই ভোট চলছে অবাধে ও উৎসবে।

ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের জন্য এবারের নির্বাচনকে পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। লড়াইয়ে পার পেয়ে গেলে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্কসবাদীর (সিপিএম) পলিটব্যুরো সদস্য মানিক রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো রাজ্যের শীর্ষপদে আসীন হবেন।

উত্তরপূর্ব অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া বিজেপির জন্যও এ নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মোট ভোটারের ৩২ শতাংশ আদিবাসী হওয়ায় তাদের ভোট টানতে বিজেপি আদিবাসীদের দল ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরার (আইপিএফটি) সঙ্গে জোটও বেঁধেছে।

আদিবাসীদের এ দলটি দীর্ঘদিন ধরেই ত্রিপুরা ভেঙে আলাদা রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে রাজ্যটির তরুণদের দলে দলে ভোটকেন্দ্রে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রচারের একেবারে শেষ দিনে ত্রিপুরায় আসেন কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধী। গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে ১০টি আসনে জয়ী কংগ্রেসের বেশ কজন সাংসদ পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভার ৫৯টির ভাগ্য নির্ধারিত হবে রোববার। সিপিএম প্রার্থী রমেন্দ্র নারায়ণ দেববর্মার মৃত্যুতে চারিলাম এলাকার ভোট স্থগিত হয়ে গেছে। আগামী ১২ মার্চ এ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯২ প্রার্থী। ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। কংগ্রেস দিয়েছে ৫৮টি আসনে প্রার্থী।সূত্র: এনডিটিভি অনলাইন।

এসএম

আরো পড়ুন....

প্রেমিকাকে বাসায় নিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে খুন