ঘূর্ণিঝড় হারভে থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ডুবে আছে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন। তবে সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো সেখানকার একটি রাসায়নিক স্থাপনা বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে তা হয়তো বিস্ফোরিত হবে অথবা আগুন ধরে যাবে। এ খবরে চারদিকে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, ওই রাসায়নিক প্লান্ট বা স্থাপনাটি হিউস্টনের ক্রসবি’তে অবস্থিত। হারভে থেকে সৃষ্ট ভারি বর্ষণের ফলে সেখানে রাসায়নিক কম্পাউন্ড শীতলীকরল বন্ধ হয়ে গেছে।
এর ফলে তা প্রচণ্ড গরম হয়ে উঠছে। এই কম্পাউন্ড সব সময় ঠাণ্ড রাখতে হয়। কিন্তু তা না হওয়ায়, এটাকে বিস্ফোরণ অথবা অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা করার কোনো উপায় আর নেই। এমন সতর্কবাণী দিয়েছে ওই কোম্পানিটি।
এই রাসায়নিক প্লান্টটির নাম দ্য আরকেমা। তারা গত শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় হারভে আঘাত হানার আগে থেকেই পূর্ব সতর্কতা হিসেবে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
এর পর থেকে ওই এলাকায় ৪০ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাতে দ্য আরকেমা স্থাপনা ও এর আশপাশে ভেসে গেছে বন্যায়। পুরো এলাকা হয়ে পড়ে বিদ্যুতবিচ্ছিন্ন। এ ছাড়া ব্যাকআপ হিসেবে যেসব জেনারেটর রাখা হয়েছে দ্য আরকেমা’য় তাও বন্যায় তলিয়ে গেছে।
ফলে দ্য আরকেমার রাসায়নিক কম্পাউন্ট শীতল করা যাচ্ছে না। ওই কম্পাউন্ডে রয়েছে উৎপাদিত জৈব পারঅক্সাইড, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। এর বেশির ভাগই বিস্ফোরক জাতীয়। এসব জিনিস জমা করে রাখা হয়েছে ওই কম্পাউন্ডে।
তাই সেখানে উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়ে বিস্ফোরণ বা অগ্নিকান্ডের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড রোউই বলেছেন, সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড বিশাল গ্যাসোলিন থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডের মতো হতে পারে।
তা হতে পারে বিস্ফোরকের মতো, তীব্র শক্তিশালী। এ থেকে যে কালো ধোয়া উদগীরণ হবে তা ত্বক, চোখ ও ফুসফুসে প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে।
এই অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঠেকানোর কোনো উপায় নেই আমাদের কাছে। ওদিকে হারভের আঘাত ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৩৩। সারা হিউস্টন রয়েছে পানির নিচে। রাস্তার ওপর দিয়ে যাচ্ছে খরস্রোতা নদীর মতো স্রোত। তেল শোধনাগার কোম্পানিগুলো তাদের পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বেড়ে গেছে জ্বালানির দামও। এর ওপরে আবার নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে টেক্সাসের পূর্ব উপকূল ও লুইজিয়ানার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানছে হারভে। তা থেকে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। যদি তা-ই হয় তাহলে এক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে ওই এলাকায়।
জেড





