মিয়ানমারে পরিস্থিতির উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিরসন না করলে দেশটির ওপর বাণিজ্যিক অবরোধের হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ব্রাসেলসের ইউরোপীয় কমিশনের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

গত ২৮-৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফর করেন। সেখানে তারা মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। মিয়ানমার থেকে প্রতিনিধি দল ব্রাসেলস ফিরে গিয়ে এই বিবৃতি দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এই কার্যক্রমে মিয়ানমার ব্যর্থ হলে বাণিজ্যিক সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক বিষয়ক কমিশনার সিসিলিয়া মাল্মস্ট্রম বলেছেন, ইউরোপীয় প্রতিনিধি দল মিয়ানমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এরপর আমরা প্রত্যাশা করছি দ্রুততম সময়ে মিয়ানমার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে। তবে তারা ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে ইইউ।  

মিয়ানমারের রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে গত ২৮-৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা দেশটি সফর করেছেন। 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ফেলে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন এবং পুরাতন মিলিয়ে ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখের বেশি।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী- গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার।  তাদের মধ্যে ৩০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৩৬ হাজার অনাথ এবং ৭ হাজার ৮০০ শিশু, যাদের বাবা ও মা উভয়েই নিখোঁজ।

এর আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর অনুসন্ধানে গণহত্যারপ্রমানও মিলেছে। তাঁরাবলছে, বর্মী সৈন্যরা গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ইন দিন গ্রামে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো। এই গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়ে তাদের দুই সাংবাদিক ওয়া লো এবং চ সো উ-কে সেখানে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়, ওই গ্রামে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা পুরুষদের একটি দল নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। তখন ওই গ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ একটি কবর খনন করার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা অন্তত দু’জনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।

এমবি