জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে তিনি অধিবেশনে অংশগ্রহণের ফাঁকে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মন্ট্রিয়ল থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) নিউইয়র্কের লা গোর্ডিয়া এয়ারপোর্টে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনসহ কূটনৈতিক কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দর থেকে বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালীন আবাসস্থল নিউইয়র্কের হোটেল ওয়াল্ডোর্ফ অস্টোরিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে, রোববার পৌঁছালেও প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচি শুরু হবে আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে। প্রথমেই তিনি জাতিসংঘ সদরদফতরে জাতিসংঘ সম্মেলনের একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে শরণার্থী ও অভিবাসীদের বিষয়ে বক্তৃতা করবেন।
এরপর ‘নিরাপদ, নিয়মিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অভিবাসনের জন্য বৈশ্বিক চুক্তি, টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ সালের এজেন্ডা উপলব্ধি এবং অভিবাসীদের মানবাধিকারের প্রতি পুরোপুরি শ্রদ্ধা অর্জন’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী সেশনে অংশ নেবেন।
পরে তিনি হোটেল মারিওট ইস্টসাইডে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক আসিয়ান লিডারদের এক সম্মেলনে যোগ দেবেন। এ সম্মেলনের আয়োজক জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনঝো আবে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদফতরের ২ নম্বর কনফারেন্স রুমে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ‘জনসেবা প্রদানে সৃজনশীলতা আনুপাতিক হারে বাড়ানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা’ বিষয়ক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বাংলাদেশ।
এরপর প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন শরণার্থী বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত বিশ্ব নেতৃত্বের সম্মেলনে।
২১ সেপ্টেম্বর সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোভেন আয়োজিত ‘গ্লোবাল ডিল ইনিশিয়েটিভ অন ইনহেনচড সোশ্যাল ডায়লগ ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।
এ দিন তিনি জাতিসংঘ সদরদফতরের ৮ নম্বর কনফারেন্স রুমে পানি বিষয়ে উচ্চ-পর্যায়ের পরিষদের বৈঠকে অংশ নেবেন।
এরপর শেখ হাসিনা নিউইয়র্কের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াটে বাংলাদেশি কমিউনিটি আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২২ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা নিউইর্য়কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে পুরো সফর নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।
২২ সেপ্টেম্বর তিনি ভার্জিনিয়ার উদ্দেশ্যে নিউইর্য়ক ছেড়ে যাবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির ডালাস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে এমিরেটস এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দুবাই হয়ে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
এমএনজে





