আসামে বোরো গেরিলাদের হামলায় ৬৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ করছে আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো। বুধবার একটি বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ৫ জন আদিবাসী নিহত হন। আসামের বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এর ফলে গতকাল থেকে বোরো গেরিলা ও পুলিশের হাতে মোট ৬৫ জন নিহত হলেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির।
মঙ্গলবার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে আসামের সোনিতপুর ও কোকড়াঝাড় জেলায় একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে হামলা চালায় ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোরোল্যান্ড (এনডিএফবি) গেরিলারা। তারা নারী, শিশুদের ওপরও নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ২০ শিশুসহ নিহত হন অন্তত ৫৫ জন। আসামে ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে কারফিউ।
নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই আদিবাসী সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে। তারা চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে আরও অনেকে মারা যেতে পারেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। ফলে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আজ বুধবার আসামে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হামলার এই ঘটনাকে কাপুরুষোচিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। বুধবার সকালে এক টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী বলেন, "এ ধরনের সন্ত্রাসী ও সহিংস কর্মকাণ্ড অবশ্যই শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।"
নিহতদের মধ্যে সোনিতপুরেই রয়েছেন ২৭ জন। এর মধ্যে ১০ জন নারী ও ১৩টি শিশু রয়েছে। যেসব গ্রামবাসী হামলা থেকে বেঁচে গেছেন তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, রাইফেল নিয়ে এবং সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত অবস্থায় গ্রামে হামলা চালায় গেরিলারা। তারা গ্রামে গিয়ে প্রথমে পানি পান করতে চায়। এরপরই শুরু করে গুলি। অনেক আদিবাসীদের ঘরে ঘরে গিয়ে দরজায় নক করে গেরিলারা। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোরোল্যান্ডের একটি বিভক্ত অংশের গেরিলারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরে আসামের স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে আসছে এই গেরিলা সংগঠনটি। আসামের তিন কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১০ ভাগ হচ্ছে আদিবাসী বোরো সম্প্রদায়। তারা প্রায়ই অন্যান্য আদিবাসী এবং মুসলিমদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে। তাদের অভিযোগ, আসামে বহিরাগতরা গিয়ে বসত গড়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেনাবাহিনী সম্প্রতি আসামে এই গেরিলা সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালায়। গত রোববার এক অভিযানে দুই গেরিলা নিহত হয়। পুলিশ ধারণা করছে, সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তারা।
এ ছাড়া, বোরোল্যান্ড অটোনোমাস হিল কাউন্সিলের নির্বাচনকে সামনে রেখে আদিবাসীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতেও এই হামলা চালানো হতে পারে বলে জানায় পুলিশ। বোরো গেরিলাদের অভিযোগ আদিবাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করে থাকে।
এদিকে, ঘটনার পরপর আসামজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। বেশ কয়েকটি এলাকায় জারি করা হয় কারফিউ। আসামের ভূটান সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বোরো গেরিলা অধ্যুষিত কোকড়াঝাড়, বাকসা, উদালগুরি ও চিরাং জেলায় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এরকম হামলা চালায় বোরো গেরিলারা। এতে কয়েক ডজন মুসলিম নিহত হন। বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান শত শত মুসলিম।
এমএ





