টেকনাফ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মংডুতে মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ (বিজিপি) ক্যাম্পে অজ্ঞাত গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৯ সদস্য এবং ৭ হামলাকারী নিহত হয়েছে। শনিবার রাতে এ হামলা হয়।

এ ঘটনার পর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা নেয়া হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বিশেষ টহল। টেকনাফ-২ বিজিবির কমান্ডার লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মংডু এলাকার ট্যানাইসুট, কাউয়ারবিল ও নাকফুরা এলাকায় বিজিপি ক্যাম্পে হামলার সময় শত শত রাউন্ড গুলি বর্ষণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে সীমান্তবর্তী মানুষ জানিয়েছে।

ওই কমান্ডার জানান, শনিবার রাতে গোলাগুলির শব্দ শোনার পর দোভাষীর মাধ্যমে মিয়ানমার বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তারা। বিজিপি জানিয়েছে, তাদের কিছু আউটপোস্টে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এতে কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে সন্ত্রাসীরা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়।

বিজিবির এ কর্মকর্তা জানান, হামলার ঘটনার পর থেকে টেকনাফের সীমান্ত চৌকিগুলোয় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ও মিয়ানমারের আতংকিত নাগরিকরা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে নজরদারি কঠোর করা হয়েছে। মিয়ানমারের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকেও এ সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি জানিয়েছেন।

স্থানীয় কিছু সূত্র বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসকে বলেছে, এ হামলার সঙ্গে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) জড়িত রয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার থেকে এটি এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে যে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে নাফ নদীতে জেলেদের মাছ শিকারের ওপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। টেকনাফ স্থলবন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব) আনোয়ার হোসেন জানান, রোববার মিয়ানমার থেকে কোনো অভিবাসন যাত্রী বাংলাদেশে আসেনি এবং বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে কোনো যাত্রী গমন করেনি।

এছাড়া টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া ট্রানজিট জেটি দিয়ে প্রতিদিন পারাপার করা উভয় দেশের লোকের একদিনের যাতায়াত বন্ধ ছিল। টেকনাফ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা আবদুল মন্নান জানান, মিয়ানমারের পণ্যবাহী কোনো ট্রলার স্থলবন্দরে প্রবেশ করেনি।

টেকনাফ সীমান্তের নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে মিয়ানমার সীমান্তের কাওয়ারবিল এলাকা থেকে প্রচণ্ড গুলাগুলির আওয়াজ শোনা গেছে। এ সময় শত শত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে জানান তারা।

হামলার পর বর্তমানে বিজিপির শত শত সদস্য ঘটনাস্থল ও আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন। সীমান্তের বিভিন্ন বাড়িঘরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম এলাকায় অবস্থান করে আরএসও তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমারের। চলতি বছরের মে’তে টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পের আনসার ব্যারাকে হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা এবং ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ শতাধিক গুলি লুটের ঘটনায়ও আরএসও জড়িত বলে বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

এমএনজে