কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে মার্কিন নাগরিকরা। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এই আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে পূর্ব নির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মার্কিন নাগরিকরা আয়োজন করেন স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ। শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যাপক আতশবাজিও হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। তবে পূর্ব উপকূলের সমুদ্র সৈকতে হামলা এবং পশ্চিমের দাবানলে এই নিরাপত্তার শঙ্কা আরো বৃদ্ধি করেছে।

সম্প্রতি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হুমকি বিবেচনা করে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক গভর্নর অ্যান্ড্রিউ কুওমো অঙ্গরাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক শহরে প্রায় সাত হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে যারা সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার বিল ব্রাটন বলেন, আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি নতুন কিছু করতে এবং সহিংসতা প্রতিরোধ করতে। এমন নয় যে, একটা কিছু ঘটলো এবং তখন আমরা কিছু একটা করলাম।

ওয়াশিংটনের প্যারেড, কনসার্ট এবং আতশবাজির খেলায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। এখানে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শেল ব্যবহার করা হয়।

ন্যাশনাল পার্ক প্রায় সাড়ে তিন মাইল জুড়ে চেইন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। এছাড়া ১৪শ হাজার ফুটের বাইকেল ঝুলিয়ে রাখার তাক তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া নাগরিকদের সুবিধার্থে সাড়ে ৩শ টয়লেট তৈরি করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে গুলি বিনিময়ের ঘটনার খবর যখন পাওয়া যায়, তখন ওয়াশিংটনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

পুলিশ প্রধান ক্যাথি লেনিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ রবিবার ছুটির দিনেও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিল।

পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল দেখা দেয়ার পর ওয়াশিংটন, ওরেগন রাজ্যে আতশবাজি ফুটানোর বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করে দেয়া হয়। কুপারটিনো, ক্যালিফোর্নিয়া এবং আলাস্কার বৃহৎ শহর আনকোজে আতশবাজির খেলা বাতিল করা হয়। তবে নাগরিকদের বেশিরভাগই এসব নিরাপত্তার শঙ্কাকে পাত্তা দেয়নি, তারা মাতৃভূমির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে উত্সাহ-উদ্দীপনা নিয়েই বাইরে আসেন।

গত শুক্রবার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ছোট বড় শহরগুলোতে চলে ব্যাপক হারে আতশবাজি। এসব আতশবাজি দেখতে লক্ষ লক্ষ মানুষ মিলিত হয়েছিলেন স্কুল ও কলেজের মাঠগুলোতে।

উল্লেখ্য, ১৭৭৬ সালের ২ জুলাই গ্রেট ব্রিটেনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি উপনিবেশ মুক্ত হয়। এরপর ৪ জুলাই চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দিনটি আরও নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটির স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে একমাত্র স্বাক্ষরকারী দুজন জন এডামস ও থমাস জেফারসন একইদিন অর্থাৎ ১৮২৬ সালের ৪ জুলাই মারা যান। ওই বছর ছিল স্বাধীনতার ৫০ বছর। এ ছাড়া অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জনক জেমস মনরো, যিনি পরবর্তীতে দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তিনিও মারা যান ৪ জুলাই।

তবে সালটি ছিল ১৮৩১। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। সবদিক মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ।

এসএইচ